জগন্নাথের প্রসাদ পৌঁছবে বাংলার ঘরে ঘরে, ৩০০ কেজি ক্ষীর বিতরণের উদ্যোগ রাজ্যের
Connect with us

ধর্ম

জগন্নাথের প্রসাদ পৌঁছবে বাংলার ঘরে ঘরে, ৩০০ কেজি ক্ষীর বিতরণের উদ্যোগ রাজ্যের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলার মানুষের মঙ্গলকামনায় মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের (Jagannath Dev) সামনে নিবেদন করা হল ৩০০ কেজি খোয়া ক্ষীরের মহাপ্রসাদ। সেই প্রসাদ এবার পৌঁছে যাবে রাজ্যের প্রতিটি জেলার সাধারণ মানুষের কাছে। সোমবার দিঘা জগন্নাথ মন্দির চত্বর থেকে ‘রেফ্রিজারেটেড ভ্যান’-এ সেই মহাপ্রসাদ পাঠানো হল জেলার উদ্দেশে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে সমস্ত ব্লকে প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্য প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা। বিধায়কদেরও বলা হয়েছে এই বিতরণ প্রক্রিয়ার প্রতি সতর্ক নজর রাখতে।

তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) জানালেন, ১৭ জুন থেকে ২৭ জুনের মধ্যে রাজ্যজুড়ে এই প্রসাদ বিলি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই দিঘা মন্দির চত্বরে ছিল উৎসবের পরিবেশ। কলকাতা থেকে ৩০০ কেজি খোয়া ক্ষীর দিঘায় এসে পৌঁছানোর পর তা মহাপ্রভুকে নিবেদন করা হয় পিতলের থালায়। ৩০টি আলাদা আলাদা বাক্সে ১০ কেজি করে ক্ষীর ভরে প্রতিটি বাক্সে জেলার নাম লেখা হয়। ৩০ জন মহিলা সেই বাক্সগুলি নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন, পিছনে খোল-করতালের সহগানে চলতে থাকে বিশাল শোভাযাত্রা।

এরপর মা বিমলাকে প্রসাদ নিবেদন করে, মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের সামনে তা অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস (Radharaman Das), পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি (Purnendu Maji) সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। রাধারমণ দাস বলেন, “এটা শুধুই প্রসাদ বিতরণ নয়, বাংলার মানুষের কল্যাণের সংকল্প। জগন্নাথ দেবের (Jagannath Dev) কৃপায় সকলের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক।”

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশিদের ফেরাতে কঠোর হিমন্ত, অবৈধ অনুপ্রবেশে রুখতে চলবে অভিযান

Advertisement
ads

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জন্য প্রসাদ তুলে দেওয়া হয় ব্লক ও জেলার প্রতিনিধিদের হাতে। প্রত্যেক ব্লক ও পুরসভার প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি জেলার জন্য পৃথকভাবে ‘রেফ্রিজারেটেড ভ্যান’ ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে। জেলাশাসকদের নির্দেশে প্রতিটি ব্লকে ময়রাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাঁরা এই প্রসাদ দিয়ে গজা, পেড়া এবং বিশেষ সন্দেশ তৈরি করবেন। সেই সন্দেশেই মিশবে মহাপ্রসাদের খোয়া ক্ষীর। প্রসাদ বিলি হবে রেশন দোকান থেকে, প্রতিটি বাক্সে থাকবে জগন্নাথ মন্দিরের ছবি। প্রসাদ প্যাকেজিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী। দক্ষিণবঙ্গে সড়কপথে এবং উত্তরবঙ্গে বিমানপথে এই প্রসাদ পাঠানো হবে।

এদিকে, ১১ জুন মহাপ্রভুর স্নানযাত্রার আয়োজন হচ্ছে। সেই দিন হিডকোর ভাইস-চেয়ারম্যান হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদি (Harikrishna Dwivedi) এবং জেলাশাসক মন্দিরে উপস্থিত থাকবেন। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে স্নানের পর মহাপ্রভু অসুস্থ থাকবেন ১২ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত। এই সময় মন্দিরে দর্শন বন্ধ থাকবে। ২৬ জুন, রথযাত্রার আগের দিন মন্দিরের দরজা আবার খুলবে।

প্রশাসন অনুমান করছে ওই দিন এবং রথযাত্রার দিন বিশাল ভিড় হবে। তাই কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ৫ জুলাই উল্টো রথের দিনেও থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা। পুরীর মন্দিরের প্রথা মেনে ৬ ও ৭ জুলাই মন্দিরের বাইরে রথেই থাকবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। ৮ জুলাই মহাপ্রভু মন্দিরে প্রবেশ করবেন।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement