হামলা
ভারত-পাক সংঘাতের মাঝেই এনসিএ বৈঠক, যুদ্ধের বার্তা দিচ্ছে ইসলামাবাদ?
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। শনিবার তিনি দেশের ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (National Command Authority – NCA)-র বৈঠক ডেকেছেন। এই সংস্থাটিই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এমন বৈঠক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
পাকিস্তানের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা Pakistan Radio জানিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সেনাবাহিনীর তিন শাখার প্রধান, জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ এবং স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন (Strategic Plans Division – SPD)-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এই SPD-ই মূলত পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বালোচিস্তানের ‘মুক্তির যুদ্ধ’, অপারেশন সিঁদুরে জুগিয়েছে সাহস
যুদ্ধ না কূটনীতি? বিভাজিত মত
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শরিফ সরকারের এই বৈঠক আসলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পূর্ব প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুদ্ধ ঘোষণার আগেই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণ পর্ষদকে সক্রিয় করে রেখে পাকিস্তান সম্ভবত সম্পূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।
তবে এরই মাঝে আরও একটি ব্যাখ্যা উঠে আসছে। কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটানো এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। কারণ বর্তমান আর্থিক অবস্থার প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত টেনে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ (Nawaz Sharif) সেনার চাপে NCA-এর বৈঠক ডেকেছিলেন বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকরা। সেই সময়ও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক উদ্বেগ। এবারও কি তেমনই কোনও ঘুঁটি সাজাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ?
ভারতের অবস্থান
ভারতের পক্ষেও আলাদা পরমাণু কমান্ড ব্যবস্থা রয়েছে। এটি সেনার কোনও শাখার আওতায় নয়, বরং সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখেন দেশের Chief of Defence Staff। ভারতের পরমাণু নীতিতে ‘No First Use’ অবস্থান থাকলেও পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি দুইই রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে প্রতিরক্ষা সূত্রে।
এই মুহূর্তে দুই দেশই সীমান্তে অবস্থান নিয়ে গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে। তবে সরকারিভাবে কোনও পক্ষই এখনও পর্যন্ত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তা সত্ত্বেও এনসিএ বৈঠক এবং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা ঘিরে পরিস্থিতি নতুন মাত্রা নিচ্ছে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।
