হামলা
গাজাতুল হিন্দ’ প্রতিষ্ঠার ছক! নলহাটির গ্রাম থেকে রাজ্য জুড়ে ছড়াচ্ছিল জেহাদি প্রভাব
ডিজিটাল ডেস্কঃ বহিরঙ্গে শান্ত, নম্র স্বভাব। পাড়ায় পরিচিত ভদ্র ও নিরীহ তরুণ হিসেবে। কিন্তু সেই শান্ত মুখোশের আড়ালে দিনের পর দিন ভারতে রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়েছিল তারা। নলহাটি (Nalhati) ও মুরারই (Murarai) থেকে দুই যুবককে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করল রাজ্য এসটিএফ (STF)। ধৃতরা হল সাহেব আলি খান (Saheb Ali Khan) ও আজমল হোসেন (Ajmal Hossain)।
ধৃত সাহেব আলি, পেশায় গাড়িচালক। থাকেন মুরারইয়ের চাপড়া গ্রামে। সাধারণত শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবে পরিচিত। পরিবারের অভাব-অনটনের মধ্যেও নিজেকে সংসারের কাজে ব্যস্ত রাখত। স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক হয়ে গিয়েছেন গ্রেপ্তারের খবরে। সাহেবের মা সাকিনা বিবি বলেন, “ছেলে কখনও কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেনি। এলাকাতেও তার বদনাম ছিল না।” কিন্তু তার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে পেনড্রাইভ, কিছু ধর্মীয় বই এবং সন্দেহভাজন নথিপত্র।
অন্যদিকে, আজমল হোসেন নলহাটির বাসিন্দা। পেশায় একজন হাতুড়ে চিকিৎসক। স্থানীয় মানুষের চোখে একজন পরিষেবামনস্ক যুবক। তার বাবা জর্জিস মণ্ডল জানান, “আজমল শাহ ইমাম নামে এক মৌলবীর থেকে ধর্মীয় বই সংগ্রহ করত। কিছু বই বাংলাদেশের প্রকাশনীর।” আজমলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ল্যাপটপ এবং একাধিক ধর্মীয় বইপত্র যেগুলির মধ্যে ছিল উসকানিমূলক মতাদর্শ প্রচারের উপাদান।
এসটিএফ সূত্রে খবর, এই দুই ধৃত জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB) নামক নিষিদ্ধ জেহাদি সংগঠনের সদস্য। তাদের দায়িত্ব ছিল ভারতের মুসলিম যুবকদের উগ্রবাদে প্ররোচিত করে মগজধোলাই করা। এক্ষেত্রে তারা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রবিরোধী ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে দিত। লক্ষ্য ছিল ‘গাজাতুল হিন্দ’ (Ghazwat-ul-Hind) আদর্শ বাস্তবায়ন করা।
সূত্র জানাচ্ছে, ওই দুই যুবক বিশেষ জায়গা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
শুক্রবার আদালতে তোলা হয় ধৃতদের। একদিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ফের আদালতে তুলে তাদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানাবে এসটিএফ।
