হামলা
সন্ত্রাস ছড়ানোর পুরস্কার? পাকিস্তানের ঝুলিতে IMF-এর মোটা ঋণ
ডিজিটাল ডেস্কঃ নয়াদিল্লির প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও পাকিস্তানকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)। যদিও আইএমএফ এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) দফতর শুক্রবার গভীর রাতে এই তথ্য জানিয়েছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের বাধা সত্ত্বেও আইএমএফের সহায়তা প্রমাণ করে, পাকিস্তান সঠিক অর্থনৈতিক পথে রয়েছে। শাহবাজ বলেন, “ভারতের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হল”। ইসলামাবাদের ভাষায়, ভারত চেয়েছিল অর্থনৈতিক চাপে পাকিস্তানকে দুর্বল রাখা হোক, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের পাশে দাঁড়ানোয় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
কোন প্রক্রিয়ায় এই ঋণ?
এই অর্থ সাহায্য মিলেছে ‘Extended Fund Facility’ কর্মসূচির আওতায়। মূলত পাকিস্তানের সংকটাপন্ন অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘Resilience and Sustainability Facility’-এর অন্তর্ভুক্ত আরও ১.৩ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবও বিবেচনায় এসেছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ ভারত-পাক সংঘাতের মাঝেই এনসিএ বৈঠক, যুদ্ধের বার্তা দিচ্ছে ইসলামাবাদ?
ভারতের কড়া আপত্তি
ভারতীয় অর্থমন্ত্রক (Finance Ministry of India) আগেই আইএমএফ বোর্ডে কঠোর আপত্তি জানায়। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, এই অর্থ পাকিস্তান ভারত-বিরোধী কর্মকাণ্ড বা জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করতে পারে। ভারতের বক্তব্য, সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া এক রাষ্ট্রকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে তাতে আন্তর্জাতিক বার্তা খারাপ যাবে এবং আইএমএফের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
পাকিস্তানের দাবি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটির অর্থনৈতিক সূচক উন্নতির পথে রয়েছে। কর সংস্কার, বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার, এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মতো ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটি ৩৯ মাস মেয়াদি ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পেয়ে গিয়েছে। আরও কিস্তি পেতে হলে পরবর্তী ধাপগুলির মূল্যায়ন সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে ইসলামাবাদকে।
কূটনৈতিক মহলের উদ্বেগ
এই ঋণ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের কটাক্ষ—এতদিন ধরে যাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসে মদত দেওয়া রাষ্ট্র বলে বিবেচনা করা হতো, তাকে এই পরিমাণ ঋণ দিয়ে আইএমএফ নিজেই একটি রাজনৈতিক ঝুঁকি নিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, তার দায় থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি মুক্ত থাকতে পারবে না বলেও মত বিশ্লেষকদের।
