কাশ্মীর সীমান্তে পাক সেনার দানবীয় হামলা, মৃত ১৫, কান্নায় ভাসছে উপত্যকা
Connect with us

হামলা

কাশ্মীর সীমান্তে পাক সেনার দানবীয় হামলা, মৃত ১৫, কান্নায় ভাসছে উপত্যকা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান সেনা লাগাতার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি ও মর্টার শেল ছুঁড়ছে, যার ফলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকা। গভীর রাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একের পর এক হামলা চালানো হয় কুপওয়াড়া (Kupwara), বারামুল্লা (Baramulla), উরি (Uri) এবং আখনুর (Akhnur) সেক্টরে। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিনা উসকানিতে পাকিস্তানি সেনারা ছোট অস্ত্র এবং কামান ব্যবহার করে গুলি চালায়।

এ ঘটনায় অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও সেনার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। শহিদ হয়েছেন ভারতীয় সেনার এক জওয়ান, দিনেশ কুমার শর্মা (Dinesh Kumar Sharma), যিনি হরিয়ানার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সাইনি (Nayab Saini) সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিক তোমার কাজে গর্বিত। তোমার আত্মত্যাগ দেশ কখনও ভুলবে না।”

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি, বালোচ বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ পাক সেনা নিহত

কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বসবাসকারী সাধারণ মানুষ দিন-রাত আতঙ্কিত। পাকিস্তানের একের পর এক গুলির আওয়াজে ঘুম উড়ে গেছে। গুলি ও বোমায় অনেকের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে, আবার কারও প্রিয়জন চিরদিনের জন্য চলে গেছে। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, “আমাদের কী দোষ? আমরা কী করেছি?” কথাগুলো বলতেই কেউ কেউ কেঁদে ফেলেছেন।

Advertisement
ads

এটি নতুন ঘটনা নয়। ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরনে (Baisaran, Pahalgam) পর্যটকদের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা, যেখানে ২৬ জন প্রাণ হারান। এই হামলার পরই ভারত সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করে এবং তার পরবর্তী সময়ে পাক সেনা নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর হামলা চালাতে থাকে। ২৪ এপ্রিল রাত থেকে গুলি বর্ষণ শুরু হয়। মঙ্গলবার রাতেই ১০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান, আর বুধবার রাতে মৃত্যু হয় আরও ১৫ জনের, যাদের অধিকাংশই স্থানীয় কাশ্মীরি নাগরিক।

এছাড়া, পুঞ্চের (Poonch) গুরুদ্বারেও গুলি চালানো হয় পাকিস্তানি সেনার পক্ষ থেকে। রাত ১.৩০ মিনিট থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় গুরুদ্বারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানাচ্ছেন, “আমাদের বাড়ি ভেঙে গেছে। এখন কী খাব, কী পরব, কিছুই নেই। আমাদের সবকিছু চলে যাচ্ছে।”

Continue Reading
Advertisement