পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি, বালোচ বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ পাক সেনা নিহত
Connect with us

হামলা

পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি, বালোচ বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ পাক সেনা নিহত

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সীমান্তের উসকানি বেড়েই চলেছে, তবে পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের আকারও এখন বড় হয়ে উঠেছে। বুধবার, বালোচিস্তানের দুটি শহরে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৪ পাক সেনা আধিকারিক নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে বালোচ বিদ্রোহী সংগঠন, বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। বালোচিস্তান যে শুধু পাকিস্তানের জন্য একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা হয়ে দাঁড়িয়েছে তা নয়, বরং এক ধরনের গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে, যেখানে পাকিস্তানকে বার বার এই প্রদেশের বিদ্রোহীদের কাছ থেকে বড় আঘাত সহ্য করতে হচ্ছে।

বুধবার বালোচিস্তানের বোলান ও কেছের কুলাগ তিগরানে দুটি আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শোর্কান্ডে পাক সেনার গাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং বিশেষ অপারেশন কমান্ডার তারিক ইমরান সহ আরও কিছু সেনা আধিকারিক নিহত হন। এই হামলার ফলে একেবারে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। বালোচ বিদ্রোহীরা এ ব্যাপারে জানায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এখন ‘সশস্ত্র গুণ্ডাবাহিনীতে’ পরিণত হয়েছে। তারা বালোচিস্তান দখল করতে চাইছে, যা তারা বরদাস্ত করবে না।

আরও পড়ুনঃঅপারেশন সিঁদুরের পর সীমান্তে উত্তেজনা, রাজ্যে সব সরকারি ছুটি বাতিলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর 

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন, স্কুল বা ট্রেনেও হামলার পালা বাড়িয়েছে। গত মার্চ মাসে, বালোচ বিদ্রোহীরা এক যাত্রীবাহী ট্রেন, ‘জাফার এক্সপ্রেস’ দখল করেছিল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি না দিলে, বিদ্রোহীরা পণবন্দিদের খুন করার হুমকি দেয়। শেষে, ঠিক সময়ের মধ্যে পণবন্দিদের উদ্ধার করা হলেও, বালোচ বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা অন্তত ৫০ পাক সেনাকে হত্যা করেছে।

Advertisement
ads

পাকিস্তানে বালোচিস্তানের স্বতন্ত্রতার দাবি এবং বিদ্রোহের ইতিহাস
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালোচিস্তান থেকে আসছে এই বিদ্রোহের ধ্বনি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই, বালোচিস্তান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ২০০০ সালে, বালোচ লিবারেশন আর্মি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পাকিস্তান এর প্রতিকার হিসেবে গুম, হত্যা, ধর্ষণসহ ভয়াবহ অত্যাচার চালিয়ে গৃহযুদ্ধের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

বিশেষ করে, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই বালোচিস্তান আরও বেশি অশান্ত হয়ে উঠেছে। এই প্রদেশের খনিজ সম্পদ পাকিস্তান শোষণ করে নিয়ে যাচ্ছে, আর তার বিপরীতে বালোচ জনগণ পাচ্ছে নিপীড়ন এবং দারিদ্র। পাকিস্তানের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একেবারে কঠিন করে তুলেছে, যেখানে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Continue Reading
Advertisement