রাজ্যের খবর
মুর্শিদাবাদের অশান্তি নিয়ে রাজনীতির উত্তাপ, মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার মুর্শিদাবাদ সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শমসেরগঞ্জ, সুতির মতো উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হিংসার পেছনে থাকা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। মমতার দাবি, “আমি কারও বিরুদ্ধে নই, তবে যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ায়, তারা বাংলার শত্রু।”
তিনি আশ্বাস দেন, হিংসার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী পছন্দের কিছু লোকজন নিয়ে সফরে গেছেন, পুলিশকে আগেভাগে ব্রিফ করা হয়েছে, এবং পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন।”
শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন মাত্র দুইটি ওয়ার্ডে অশান্তি হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ১০টি জায়গায় অন্তত ৯০০টি বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামগুলিকে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে তারা মুখ খুলতে না পারে।” তাঁর আরও কটাক্ষ, “মুখ্যমন্ত্রী নিজের দায় এড়াতে চাইছেন, কিন্তু রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে সেই দায়িত্ব তিনি ফেলে দিতে পারেন না।”
আরও পড়ুনঃ শমসেরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, হিংসার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে মুখ্যমন্ত্রী
অন্যদিকে, কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যেমন মণিপুর (Manipur), রাজস্থান (Rajasthan), বিহার (Bihar), ওড়িশা (Odisha)-তে হিংসার ঘটনা ঘটলেও, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সেখানে যান না। অথচ বাংলায় সামান্য কিছু হলেই সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে।” তাঁর দাবি, এই ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং কিছু বহিরাগত ধর্মের নামে ভুল বার্তা ছড়িয়ে গন্ডগোল বাধিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “বাংলার মানুষ কোনওরকম দাঙ্গা বরদাস্ত করবে না। সরকার হিংসাকে প্রশ্রয় দেয় না। যারা ধর্মের নামে অশান্তি ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তাঁর মতে, কোনও সংগঠন যদি দাঙ্গা ছড়ায়, তার জন্য সরকার দায়ী নয়।
এই মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। হিংসা এবং তার পরবর্তী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
