ত্যাগী থেকে ভোগী! দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপের সাক্ষাৎ ঘিরে বিজেপিতে বিতর্কের ঝড়
Connect with us

প্রতারণা

ত্যাগী থেকে ভোগী! দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপের সাক্ষাৎ ঘিরে বিজেপিতে বিতর্কের ঝড়

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দলীয় নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একপ্রকার উদাহরণ। আরএসএস-এর ঘরানায় বেড়ে ওঠা দিলীপ ঘোষের জীবন মানেই ছিল অনুশাসনের ধাঁচে বাঁধা পথ। কিন্তু বুধবার দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে তাঁর আচরণ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় তোলে—শুধু বিরোধী মহলে নয়, দলীয় অন্দরেও।

জগন্নাথ ধামের উদ্বোধনের দিন বিকেলে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সস্ত্রীক হাজির হন দিঘায়। শুধু মন্দির দর্শনেই থামেননি, পুজো সেরে সোজা চলে যান সেই ঘরে, যেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের সেই মুহূর্তের ছবি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। দলনেতৃত্বের তরফে দিলীপের এই আচরণকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা দেখা গেলেও, দলের একাংশ কিন্তু বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছে না। শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার দু’জনেই দিলীপের উপস্থিতিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও, বাঁধ ভেঙে গিয়েছে সৌমিত্র খাঁ-র ক্ষোভে।

আরও পড়ুনঃ দিলীপ-মমতা এক ফ্রেমে! জগন্নাথ ধাম কি মিলিয়ে দিল রাজনৈতিক রং?

ফেসবুকে নাম না করেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ। তাঁর আক্রমণ, “ত্যাগী থেকে কীভাবে ভোগী হওয়া যায়, তার নিদর্শন দিলীপ ঘোষ। যাঁদের বিরুদ্ধে এতদিন লড়েছেন, আজ তাঁদের পথেই হাঁটছেন আপনি। বাংলার বিজেপির গায়ে কলঙ্কের ছাপ এঁকে দিচ্ছেন।”

Advertisement
ads

এই মন্তব্য যে শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বের বহির্প্রকাশ, তা স্পষ্ট হচ্ছে। কারণ, ঠিক একই সময়ে কাঁথিতে ‘সনাতনী মহাসম্মেলন’ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী—জগন্নাথ ধাম উদ্বোধনের প্রায় সমান্তরাল কর্মসূচি। কিন্তু দিলীপ ঘোষ সেখানে না গিয়ে সোজা দিঘায় হাজির হওয়ায়, দুই বিজেপি নেতার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। একই দলের দুই হেভিওয়েট নেতার দুটি পৃথক কর্মসূচিতে যাওয়া এবং একে অপরকে এড়িয়ে চলার এই প্রবণতা কি তৃণমূলের রাজনৈতিক মঞ্চেই নতুন কোনও বার্তা রাখল? নাকি দিলীপের ব্যক্তিগত উপস্থিতি দলের ভিতরে আরও গভীর বিভাজন তৈরি করল? দিলীপ অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, স্ত্রীকেও ডাকা হয়েছিল। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কি অপরাধ?”

তবে প্রশ্ন উঠছে—সৌজন্য সাক্ষাৎ আর রাজনৈতিক সঙ্কেতের মধ্যে রেখাটি কোথায়? বিজেপি নেতারা সেই রেখা বুঝতে পারলেন কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে। একদিকে দিলীপ ঘোষ ‘ভগবানের ডাকে’ সাড়া দিয়ে মন্দির দর্শনে গেলেও, দলের তরফে একের পর এক নেতার প্রতিক্রিয়ায় পরিষ্কার, ঈশ্বরের মেলবন্ধনের দিনেই বঙ্গ বিজেপিতে দূরত্বটা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

Continue Reading
Advertisement