Connect with us

দক্ষিণ দিনাজপুর

ভুয়ো লোনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতানো! সাইবার প্রতারণার জাল ভাঙল দিনাজপুর পুলিশ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ সাইবার অপরাধীদের একটি বড় চক্রের পর্দাফাঁস করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। ভুয়ো লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি করে দেওয়া হচ্ছিল—এমন অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দুইজন পরস্পরের ভাই এবং অপরজন এক রূপান্তরকামী। তদন্তে উঠে এসেছে, এই প্রতারণা কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে একটি বহুপর্যায়িক সুসংগঠিত চক্র, যারা একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে প্রতারণা চালাত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিগত কয়েক মাসে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে যোগাযোগ করে লোভনীয় লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ব্যক্তিগত নথিপত্র—ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আধার কার্ড, প্যান নম্বর, চেক—নিয়ে নেওয়া হত। প্রতিশ্রুত লোন তো আসেই না, উলটে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যেত গচ্ছিত অর্থ।

আরও পড়ুনঃ ত্যাগী থেকে ভোগী! দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপের সাক্ষাৎ ঘিরে বিজেপিতে বিতর্কের ঝড়

এই চক্রকে ধরার জন্য জেলার সাইবার সেলের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। টানা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের পর মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর শহরের একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় রাকিবুল ইসলাম ও মোক্তার ইসলাম নামে দুই ভাইকে। আরও এক অভিযানে গঙ্গারামপুর থেকে ধরা হয় রূপান্তরকামী রত্না রায়কে। পুলিশ জানিয়েছে, রাকিবুল ও মোক্তার এই চক্রের অন্যতম মূল সংগঠক, এবং তাদের বাবা গোলাপ ইসলামও এই প্রতারণার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তবে তিনি বর্তমানে পলাতক।

Advertisement
ads

ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ও প্রমাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ল্যাপটপ, ২২টি মোবাইল ফোন, ৯০টি সিম কার্ড, ১৯টি ডেবিট কার্ড, ৮টি প্যান কার্ড, ৪টি ব্যাঙ্ক পাসবই এবং একটি বৈধ পাসপোর্ট। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই চক্র শুধু দক্ষিণ দিনাজপুরে নয়, বিহার ও ঝাড়খণ্ডেও সক্রিয় ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতারণার অর্থ কীভাবে ও কোথায় লেনদেন করা হত, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এমনকি কিছু ভাড়া করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও এই টাকা পাঠানো হত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ফলে অর্থের স্রোত চিহ্নিত করতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এই চক্রের মূল মাথারা আরও কেউ রয়েছে কি না, তা জানার জন্য তদন্ত জারি থাকবে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement