ভাইরাল খবর
সরকারি চাকরি দেখে দিয়েছিলেন বিয়ে, দুর্নীতি ফাঁস হতেই মেয়েকে ফিরিয়ে আনলেন বাবা
ডিজিটাল ডেস্কঃ সরকারি চাকরি পেয়েছেন শুনেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, মেয়ে সুখে থাকবে। কিন্তু সাত বছরের দাম্পত্যে নেমে এল অন্ধকার। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে চাকরি হারাল জামাই। আর তারপরই মেয়েকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনলেন মেয়ের বাবা। ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের বারগোডা এলাকার বাসিন্দা রমেন পাল (নাম পরিবর্তিত) বছর সাতেক আগে তাঁর কন্যার বিয়ে দেন ভোগপুর এলাকার স্কুল শিক্ষক সিদ্ধার্থ রায়ের (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে। তখন কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে এই চাকরি দুর্নীতির ছায়ায় ঢাকা পড়তে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ SSC দুর্নীতিতে পাল্টা অভিযোগ, শুভেন্দুকেই কাঠগড়ায় তুলল তৃণমূল
২০২১ সালে শুরু হয় এসএসসি ২০১৬ প্যানেল নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত। কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানিতে একের পর এক তথ্য উঠে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক প্রমাণাদি, নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে OMR শিট বিকৃতি, র্যাঙ্ক জাম্প, বেআইনি রিকমেন্ডেশন সহ নানা অনিয়মের তথ্য। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকেই ধীরে ধীরে বোঝা যায়, তালিকায় নাম রয়েছে সিদ্ধার্থ রায়ের (নাম পরিবর্তিত) । এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয় সেই ‘কলঙ্কিত তালিকা’র সমস্ত চাকরি। সেই তালিকায় ছিল সিদ্ধার্থ রায়ের ও (নাম পরিবর্তিত) নাম।
এই ঘটনার জেরে রমেনবাবু (নাম পরিবর্তিত) তাঁর মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনেন। প্রতিবেশীদের দাবি, মান-সম্মান এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে রমেনবাবু (নাম পরিবর্তিত) বা সিদ্ধার্থ কেউই মুখ খুলতে চাননি। জানা গিয়েছে, সিদ্ধার্থ ও তাঁর স্ত্রীর একটি ছয় বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। দুর্নীতির ছায়া যেমন প্রভাব ফেলেছে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে, তেমনই তা ভেঙে দিচ্ছে একের পর এক সংসার—এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
