দেশ
মাত্র তিন দিনেই আইনে ওয়াকফ সংশোধনী বিল, বিরোধিতায় সরগরম রাজনীতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাল দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল। সংসদের দুই কক্ষ — লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর মাত্র তিন দিনের মাথায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনে পরিণত হল এই বিতর্কিত বিল। সূত্রের খবর, গত শনিবারই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতি পেয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। এখন শুধু আইনি রূপে কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা।
এদিকে, কিষাণগঞ্জের কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাওয়েদ এই বিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ওয়াকফ সংশোধনী বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছে। সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বৈষম্য তৈরি হবে, যা মেনে নেওয়া যায় না।’’ বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি ও বাম দল-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল এই বিলের বিরোধিতা করেছে। বিরোধীদের তরফে ১২ ঘণ্টা আলোচনার দাবি করা হলেও সরকার তা আট ঘণ্টায় শেষ করে বিল পাস করিয়ে নেয়।
আরও পড়ুনঃ ওয়াকফ বিল পাশের বিরোধিতা! নওসাদকে আইনি নোটিশ পাঠালেন অভিষেক
ওয়াকফ এক ধরনের ধর্মীয় ও দাতব্য সম্পত্তি, যা ইসলামিক রীতিতে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা হয়। এই সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যায় না। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ওয়াকফ ঈশ্বরের সম্পত্তি। স্বাধীন ভারতে প্রথম ওয়াকফ আইন পাশ হয় ১৯৫৪ সালে। পরে ১৯৯৫ ও ২০১৩ সালে আইনটির সংশোধন ঘটে। বর্তমানে ওয়াকফ বোর্ড গোটা দেশে ৮.৭ লক্ষ সম্পত্তি এবং ৯.৪ লক্ষ একর জমি নিয়ন্ত্রণ করে, যা রেল এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জমির মালিকানা।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ৪০,৯৫১টি মামলা বিচারাধীন। এই বিলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। আপাতত ওয়াকফ বিল রাজনীতির মঞ্চে অন্যতম বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
