অভাব অনটনে সংসার চালাতে না পেরে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন। অসহায় পরিবারের পাশে ব্লক প্রশাসন ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব
Connect with us

উত্তর দিনাজপুর

অভাব অনটনে সংসার চালাতে না পেরে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন। অসহায় পরিবারের পাশে ব্লক প্রশাসন ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব

Dipa Chakraborty

Published

on

নিজস্ব সংবাদদাতা , হেমতাবাদ , ২৩ মে : লকডাউনে নেই কাজ ফলে বন্ধ অর্থ উপার্জন, এই পরিস্থিতিতে তাই পরিবারের সদস্যদের মুখে কিভাবে দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দেবেন তা ভেবে কুল পাচ্ছেন না হেমতাবাদের প্রদীপ মন্ডল।

তাই পরিবার নিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার দক্ষিণ হেমতাবাদের বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল, তাঁর ভাই ধীরেন্দ্র নাথ মন্ডল এবং তাদের বৃদ্ধা মা রেবতী মন্ডল। এমন সিদ্ধান্তের খবর পেয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে ব্লক প্রশাসন। পাশাপাশি তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে হেমতাবাদ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ব্লকের চৈনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মালডোমা গ্রামে আগুন লাগিয়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়ে ছিল । গ্রাম বাসীদের একাংশের দাবী আর্থিক অনটনের জেরে এই ঘটনা ঘটেছিল। এবারে হেমতাবাদ ব্লকের দক্ষিন হেমতাবাদ গ্রামের রেবতি মন্ডলের পরিবার চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রেবতি দেবী ছাড়াও তার দুই ছেলে লকডাউনের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তিনি নিজে অসুস্থ। সরকারি বার্ধক্যভাতা এবং সরকারিভাবে রেশন পেয়ে থাকলেও রেবতি দেবীর মাসিক একহাজার টাকা ভাতা ওষুধের পেছনেই খরচ হয়ে যায়। ছেলেরা শ্রমিকের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতেন। বর্তমানে লকডাউনের কারণে তাদেরও কাজ বন্ধ। বাসস্থান বলতে একটি মাত্র ঘর।

সেই ঘরেরও ভগ্নদশা। একটু বৃষ্টিতেই প্রায় বসে রাত কাটাতে হয়। সরকারি প্রকল্পে ঘরের জন্য একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো লাভ হয় নি। ফলে একচিলতে কুড়ে ঘরেই কোনোরকমে দিন গুজরান করেন তারা। রেবতি দেবীর ছেলে প্রদীপ মন্ডলের দাবি, আজ তারা বেঁচে থাকা এবং মরে যাওয়ার মাঝ খানে দাঁড়িয়ে আছি। মাকে বাঁচিয়ে রাখতে ওষুধ কিনতেই প্রচুর অর্থ খরচ হয়ে যাচ্ছে। ঋন নিয়ে কোনভাবে বেঁচে থাকলেও এভাবে বেঁচে থাকা হয়ত তাদের আর সম্ভব হবে না। যদিও এই অসহায় পরিবারের সমস্যা ব্লক প্রাসাসনের নজরে আসতেই হেমতাবাদ ব্লক বিডিও লক্ষ্মীকান্ত রায়ের নির্দেশে সরকারি সাহায্য নিয়ে ব্লকের আধিকারিকেরা রেবতি দেবীর বাড়িতে হাজির হন। সরকারি ত্রান সামগ্রী ছাড়াও নগদ টাকা তুলে দেন তার হাতে। এছাড়াও সরকারি প্রকল্পে ঘর তৈরীর আশ্বাস সহ তার দুই ছেলেকেই ১০০ দিনের প্রকল্পে যুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও। পাশাপাশি রবিবার দুপুরে রেবতি দেবীর বাড়িতে যান হেমতাবাদ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সদস্য ও তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতৃত্বরা। ওই পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিপদে পাশে থাকারও আশ্বাস দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।