দেশের খবর
জ্যোতির পাক সফরের নেপথ্যে ইউটিউব কনটেন্ট, গুপ্তচর তকমায় ক্ষুব্ধ বাবার প্রতিবাদ
ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে হরিয়ানার হিসার (Hisar) থেকে গ্রেফতার করা হল ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রাকে (Jyoti Malhotra)। হরিয়ানা পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রেখে সেনা ও কূটনৈতিক সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল তথ্য লেনদেন করছিলেন।
হরিয়ানা পুলিশের ডিএসপি কমলজিৎ সিং (Kamljit Singh) জানান, “গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সরকারি গোপনীয়তা আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (BNS 152) অধীনে তাঁকে গ্রেফতার করেছি। তাঁর মোবাইল ও ল্যাপটপে বেশ কিছু সন্দেহজনক চ্যাট, ভিডিও এবং নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে। বর্তমানে তিনি পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।”
আরও পড়ুনঃ ভ্রমণ ভিডিওর আড়ালে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি! গ্রেপ্তার মহিলা ইউটিউবার-সহ ৬ জন
তবে মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর বাবা হরিস মলহোত্রা (Haris Malhotra)। ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জ্যোতি ইউটিউব কনটেন্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়াত। পাকিস্তানে যাওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ ভিসা এবং অনুমতি ছিল। ওখানে ওর কিছু বন্ধুও রয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মধ্যে তো অপরাধ নেই!”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুলিশ আমাদের পুরো পরিবারকে হয়রানি করছে। মোবাইল, ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও ব্যাঙ্কের কাগজপত্র পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছে। এমনকি আমাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়ে এক পাক নাগরিক আহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশের (Ahsan-ur-Rahim aka Danish) সঙ্গে পরিচয় হয় জ্যোতির। সেখান থেকেই শুরু হয় নিয়মিত যোগাযোগ। এরপর তিনি অন্তত দু’বার পাকিস্তানে যান, যেখানে তাঁর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি, নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেয় ওই ব্যক্তি।
এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার আড়ালে বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার অনুপ্রবেশ নিয়ে। তদন্তকারীরা বলছেন, একাধিক ক্ষেত্রেই তথাকথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা পর্যটকের ছদ্মবেশে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করছে শত্রুরা।
পাকিস্তানের হয়ে তথ্য পাচার – এক নজরে ঘটনা:
-
ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রা অভিযুক্ত
-
পাক নাগরিক আহসান-উর-রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ
-
পাকিস্তানে দু’বার সফর এবং গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
-
মোবাইল-ল্যাপটপে সন্দেহজনক তথ্য উদ্ধার
-
সরকারি গোপনীয়তা আইন ও BNS 152 ধারায় মামলা
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। জ্যোতির কনটেন্ট তৈরির আড়ালে যদি সত্যিই তথ্য পাচারের কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকে, তবে তা ভারতের নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছে গোয়েন্দা মহল।
