ভাইরাল খবর
বারুইপুর কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য! মদ-গাঁজার ঠেক থেকে শুরু নৃশংসতার অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্কঃ বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য (Information)। যে পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার কাছেই থাকা একটি ঝুপড়িকে ঘিরে এখন তদন্তকারীদের নজর। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে (Investigation) দাবি, ওই ঝুপড়িতে নিয়মিত মদ ও গাঁজার আসর বসত এবং সেখানেই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ (Police)। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুরো চিত্র জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন প্রভাস মণ্ডল কৌশলে নাবালিকাকে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল আনন্দ ও দিবাকর। অভিযোগ, তিনজন নেশা করার পর কিশোরীর উপর নির্যাতন চালায়। তদন্তকারীদের দাবি, নির্যাতনের সময় নাবালিকার শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট (Postmortem Report) ঘিরেও তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তদন্তকারীদের দাবি, রিপোর্টে অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিং (Antemortem Drowning)-এর উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, পুকুরে ফেলার সময় কিশোরী জীবিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ফুসফুস ও পাকস্থলীতে জল পাওয়ার বিষয়টিও এই ধারণাকে জোরালো করছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের অনুমান, নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় কিছু সময় ঝুপড়িতেই পড়ে ছিল নাবালিকা। পরে রাতের অন্ধকারে দেহ সরানোর চেষ্টা করা হয়। প্রথমে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলেও তা ছিঁড়ে যায়। এরপর কাছের পুকুরেই দেহ ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
এদিকে মৃতার পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তল্লাশি শুরু হলে হয়তো কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো। যদিও বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষা (Forensic Test), ভিসেরা রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের জেরা করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
