আইসিকে গালিগালাজ কাণ্ডে অনুব্রতকে তৃণমূলের ভর্ৎসনা, চার ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ
Connect with us

ভাইরাল খবর

আইসিকে গালিগালাজ কাণ্ডে অনুব্রতকে তৃণমূলের ভর্ৎসনা, চার ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বোলপুর (Bolpur) থানার ইনস্পেক্টর ইন চার্জ লিটন হালদার (Liton Halder)–কে ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal) ভর্ৎসনা করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শুক্রবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর নির্দেশে দল জানিয়ে দেয়, এমন আচরণ দল কোনওভাবেই মেনে নিতে পারে না। এক সরকারি বিবৃতিতে তৃণমূল স্পষ্ট করে, “একজন পুলিশ আধিকারিককে উদ্দেশ্য করে যেভাবে অনুব্রত মণ্ডল অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার নিন্দা করছি আমরা। এই বক্তব্য দল কোনওভাবেই সমর্থন করে না এবং আমরা তীব্র ভাষায় তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

একই সঙ্গে দল অনুব্রতকে নির্দেশ দেয়, আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে তাঁর বিরুদ্ধে শোকজ (Show Cause) নোটিশ জারি করা হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ অডিও ক্লিপে গালিগালাজ, আইসির অভিযোগে অনুব্রতর বিরুদ্ধে মামলা

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি অডিও ক্লিপ। যদিও তার সত্যতা নির্দিষ্টভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে ওই ক্লিপে এক ব্যক্তিকে বোলপুর থানার আইসি-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায়। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি অনুব্রত মণ্ডল, যিনি কেবল আইসি নন, তাঁর স্ত্রী ও মাকে নিয়েও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। যা শুনে প্রশাসন ও পুলিশ মহলে প্রবল ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

Advertisement
ads

সূত্রের খবর, বিষয়টি জানাজানি হতেই মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। অনুব্রতর রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো সম্পর্ক ঘিরে একাধিক বার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেতারা, বিশেষত বিজেপির সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), অভিযোগ করেন, “মমতার প্রশ্রয়েই অনুব্রতের এমন আচরণ বেড়েছে।”

Advertisement
ads

তবে এদিন পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার পরই জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ (Amandeep)-এর নেতৃত্বে অনুব্রতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় বিচারবিধির (BNS) চারটি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে— ২২৪, ১৩২, ৩৫১ ও ৭৫।

শুধু তাই নয়, অনুব্রতের ‘Y ক্যাটাগরি’ নিরাপত্তা সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “পুলিশ কর্মীদের অপমান করে কেউ পার পাবে না— এমন বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ।”

এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে শাসকদল স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ক্ষতির মেরামতির চেষ্টা করছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement