খুন
রাজনীতিবিদকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন, পুলিশের কাছে ফাঁস হল বাস্তব চিত্র
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে ঘটে গেল এক রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঘটনা, যা মনে করিয়ে দেয় থ্রিলার ছবির চিত্রনাট্য। রাজনীতিবিদ এবং তাঁর ছেলেকে ফাঁসাতে এক ৪৫ বছর বয়সি মহিলা সাজালেন অপহরণ, ধর্ষণ এবং গুলি চালনার নাটক। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ মার্চ রাতে, বেরেলির কোতোয়ালি থানার অধীন গান্ধী উদ্যান এলাকায়। অভিযোগ, ওই মহিলা বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে অপহরণ করে, ধর্ষণ করে, তারপর গুলি চালিয়ে তাঁকে মৃত ভেবে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে যায়। আরও বিস্ফোরক দাবি—ঘটনার পেছনে রয়েছেন এক রাজনীতিবিদের পুত্র, যিনি ফোনে নির্দেশ দেন: “শেষ করে দে, বাবাকে অনেক বিরক্ত করেছে এই মহিলা।”
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তদন্তে নামে বেরেলি পুলিশ। প্রথম দৃষ্টিতে শরীরে গুলির চিহ্ন দেখে ঘটনাটিকে সত্যি বলেই মনে হয়। তবে তদন্ত যত এগোয়, ততই ধরা পড়ে অসঙ্গতি। ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, মহিলার শরীরে গুলি থাকলেও সেখানে গান পাউডারের কোনও চিহ্ন নেই। অর্থাৎ, সরাসরি গুলি চালানো হয়নি। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ আরও বিস্মিত হয়—মহিলাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়নি, বরং তিনি অটোতে করেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
আরও পড়ুনঃ পঞ্জাবের জন্য ভালোবাসা, নাকি চহলের জন্য? মহওয়াশের ইনস্টা পোস্ট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে
পরে পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়েন ওই মহিলা। স্বীকার করেন, এক স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসকের সাহায্যে নিজের শরীরে অস্ত্রোপচার করে গুলি প্রবেশ করিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ধারণা ছিল, শরীরে গুলি থাকলে সকলে বিশ্বাস করবে তিনি সত্যিই আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু গান পাউডার না থাকায় পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এমনকি, এটাই প্রথম নয়। ২০২২ সালেও ওই মহিলা একই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মহিলা ছাড়াও আরও দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের প্রতারণামূলক মামলা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং প্রকৃত অপরাধের বিচারে বাধা সৃষ্টি করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
