ভাইরাল খবর
‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মদত’—মমতা সরকারকে কটাক্ষ সুকান্তর, পরিচয়পত্র কাণ্ডে নয়া বিতর্ক
ডিজিটাল ডেস্কঃ একজন ব্যক্তির একটিমাত্র ভোটার কার্ড থাকা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একই ব্যক্তির কাছে দুই দেশের ভোটার কার্ড থাকলে তা নিঃসন্দেহে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
দুই দেশের পরিচয়পত্রে একই ব্যক্তির নাম উঠে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। অভিযোগ, কুমারগঞ্জ বিধানসভার (Kumarganj Assembly) ১০১ নম্বর বুথের ভোটার রাজ্জাক সরকার (Razzak Sarkar) বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্রে রয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (Md. Abdur Razzak) নামে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে একই ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুটি বৈধ পরিচয়পত্র পেলেন?
সূত্রের খবর, রাজ্জাক সরকার পেশায় কৃষক। বাড়ি কুমারগঞ্জ ব্লকের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের (Samjia Gram Panchayat) উত্তরপাড়া এলাকায়। তাঁর বাবা আকতাব সরকার স্থানীয়ভাবে বারবার মেম্বার ছিলেন। অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও কয়েক বছর আগে রাজ্জাক বাংলাদেশে বিয়ে করেন। এরপরেই বাংলাদেশ সরকারের রেকর্ডে তাঁর নাম ওঠে ভিন্ন পরিচয়ে।
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত কুমারগঞ্জ বিধানসভার ১০১ নম্বর বুথের ভোটার রাজ্জাক সরকার কি একই ব্যক্তি?
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকার জন্য এই শনাক্তকরণ অত্যন্ত… pic.twitter.com/1UWKN46LV1
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) August 23, 2025
শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) এক্স হ্যান্ডেলে দু’দেশের পরিচয়পত্রের ছবি শেয়ার করে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনাই প্রমাণ করছে কেন ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে SIR (Systematic Identification Register) জরুরি। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্য এই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। তৃণমূল যতই বিরোধিতা করুক, কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
একই সুরে বিজেপির কুমারগঞ্জ মণ্ডল সভাপতি কমল কুমার রায়ও (Kamal Kumar Roy) দাবি করেছেন, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তৃণমূলের আপত্তি আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে শাসক দলের তরফে পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কীভাবে রাজ্জাক সরকার নামে ভারতীয় ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তির বাংলাদেশি পরিচয়পত্রে অন্য নাম নথিভুক্ত হলো, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠছে নানা মহলে। নির্বাচন কমিশনের নজরদারি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


