ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীর উপর যৌন হেনস্থার অভিযোগ, আর তাও দেশের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান IIM Calcutta-র মধ্যে! জোকা ক্যাম্পাসের বয়েজ হস্টেলে (Boys’ Hostel) দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে তাঁর সহপাঠীকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল কলেজ চত্বর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা ছাত্রী। অভিযোগ, কাউন্সেলিং সেশনের নাম করে অভিযুক্ত ছাত্র তাঁকে বয়েজ হস্টেলে ডেকে পাঠায়। সেখানে ঠান্ডা পানীয় ও খাবারের মধ্যে কিছু মেশানো হয়েছিল বলে সন্দেহ। সেই খাবার খাওয়ার পর অচৈতন্য হয়ে পড়েন ছাত্রীটি। অভিযোগ, এরপর তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। জ্ঞান ফেরার পর প্রতিবাদ করতে গেলে মারধরও করা হয় তাঁকে।
ঘটনার কথা প্রথমে ঠাকুরপুকুর থানায় জানাতে গেলে সেখান থেকে তাঁকে হরিদেবপুর থানায় পাঠানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ রাতেই ক্যাম্পাসে পৌঁছে যায়। ক্যাম্পাস থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ছাত্রছাত্রী ও নিরাপত্তারক্ষীদের।
আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় বিয়ের পর খুনের হুমকি! শান্তিপুরের তৃণমূল সভাপতি সুব্রত সরকারকে সরাল দল
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— বয়েজ হস্টেলে ঢোকার সময় ছাত্রীটির নাম রেজিস্টারে তোলা হয়নি। অথচ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বাইরের কেউ ঢুকতে পারেন না। ফলে প্রশ্ন উঠছে— নিরাপত্তাকর্মীরা কেন এই নিয়ম ভাঙলেন? এটা কি অনিচ্ছাকৃত ভুল, নাকি এর পেছনে কোনও মদত ছিল?
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁর নাম আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।
আইআইএম কলকাতা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি। ঘটনাটি সামনে আসতেই গোটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জুড়ে নেমে এসেছে তীব্র উত্তেজনা। দেশের শীর্ষ এই বাণিজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (Premier Management Institute) ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় উঠছে গুরুতর প্রশ্ন— কতটা সুরক্ষিত শিক্ষার্থীরা, এমনকি ক্যাম্পাসের ভেতরে?
নির্যাতিতার সহপাঠীরা দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কলেজ প্রশাসনের তরফে কবে এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।