খুন
আফগানিস্তানে শরিয়তি ন্যায়বিচার, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডে ফের প্রশ্নে তালিবান শাসন
ডিজিটাল ডেস্কঃ তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে এখনও সেই শাস্তিই দেওয়া হচ্ছে জনসমক্ষে, যা বর্বরতার সমার্থক বলেই ধরা হয়। গত শুক্রবার আফগানিস্তানের তিনটি জায়গায়, ভরা স্টেডিয়ামে চারজনকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে তালিবান দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রথম এক দিনে এতজনকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল।
এই ঘটনা ঘিরে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। তাদের বক্তব্য, এভাবে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং মর্যাদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। রাষ্ট্রসংঘের তরফে তালিবান শাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে, যেন ধাপে ধাপে এই প্রথা তুলে দেওয়া হয়। তবে সেই উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। সংস্থাটির মুখপাত্র আব্দুল রহিম রশিদ জানিয়েছেন, শরিয়ত আইন অনুসারে বিচার হয়েছে এবং উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর সাফ বক্তব্য, “যাঁরা এই শাস্তি পেয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নিরপরাধ নাগরিককে হত্যা করেছিলেন। শরিয়ত অনুযায়ী এটাই তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি। আর শরিয়তি আইনে বাইরের কোনও ধর্মের লোকের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।”
আরও পড়ুনঃঅবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে বাংলাদেশি যুবককে গাছে বেঁধে মারধর!
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান প্রথম দফায় ক্ষমতায় থাকার সময়েও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ছিল নিয়মিত ঘটনা। এরপর তালিবান ২০২১ সালে ফের ক্ষমতায় আসে। যদিও তখন তারা বিশ্ববাসীর সামনে নিজেকে ‘পরিণত’ এবং তুলনামূলকভাবে ‘সহনশীল’ প্রশাসন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা সেই আশ্বাসকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিল।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীদের অধিকার হরণ, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতার অভাব—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বারবার প্রশ্ন উঠছে এই প্রশাসনের নৈতিকতা ও মানবাধিকারের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে। এরই মাঝে এমন বর্বর ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে তালিবান সরকারের প্রতি চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
