ভাইরাল খবর
জঙ্গি হানার পর নিরাপত্তা প্রশ্নে তৎপরতা, আধাসেনায় শুরু দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগামে জঙ্গি হানার পর যখন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—দেশের আধাসেনায় শূন্য রয়েছে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার পদ। দেশের সীমান্ত রক্ষায় যেসব বাহিনী কাজ করে, সেগুলির ঘাটতি এখন জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে ভাবার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফ (BSF), সিআরপিএফ (CRPF), সিআইএসএফ (CISF), আইটিবিপি (ITBP) এবং এসএসবি (SSB)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীগুলিতে বহু পদে কর্মী নিয়োগ হয়নি। অনুমোদিত পদ সংখ্যা যেখানে ১০ লক্ষের বেশি, সেখানে বর্তমানে নিযুক্ত কর্মী রয়েছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখের কিছু বেশি। এই বিপুল শূন্য পদের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আধাসেনার কঠিন কর্মপরিবেশ এবং ঘন ঘন বদলির সমস্যা। অনেকেই এই অনিশ্চিত জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে স্বেচ্ছায় অবসর নিচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। ফলত কাজের চাপও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পাক-ভারত উত্তেজনার মাঝে অসুস্থ কিশোরের আবেদন: ‘আমার মাকে ফিরিয়ে দিন’
বিভিন্ন বাহিনীর শূন্য পদের পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। শুধু সিআইএসএফেই শূন্য ৪৩ হাজারেরও বেশি পদ। সিআরপিএফে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার। বিএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবিতেও রয়েছে হাজার হাজার শূন্য পদ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র দ্রুত পদক্ষেপ করছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ইতিমধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মহিলা জওয়ান ও অফিসারের সংখ্যাও যথেষ্ট কম। বিএসএফে যেখানে আড়াই লক্ষের বেশি জওয়ান রয়েছেন, সেখানে মহিলা জওয়ানের সংখ্যা মাত্র ১১ হাজারের কিছু বেশি। সিআইএসএফেও একই ছবি। এই পরিস্থিতিতে মহিলা নিয়োগেও জোর দেওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্র।
দেশের সীমান্তে যখন জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এই ঘাটতি শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়—এ এক নিরাপত্তাজনিত চরম উদ্বেগ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাটতি অবিলম্বে পূরণ না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
