কলমে বিদ্রোহ, জীবনে নাটক—চিরবিদায় সাহিত্যযোদ্ধা মারিয়ো
Connect with us

ভাইরাল খবর

কলমে বিদ্রোহ, জীবনে নাটক—চিরবিদায় সাহিত্যযোদ্ধা মারিয়ো

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ একাধারে নন্দিত, একাধারে বিতর্কিত। সাহিত্যজগতে তাঁর উপস্থিতি ছিল বিস্ময়কর আলো ও ছায়ার মিশেল। ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন লাতিন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক, নোবেলজয়ী মারিয়ো ভার্গাস য়োসা। রবিবার পেরুর রাজধানী লিমায় নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বহুপ্রশংসিত এবং বহুবার সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া এই লেখকের কলম থেকে উঠে এসেছে একের পর এক সাহিত্যের সম্পদ— The Time of the Hero, Conversation in the Cathedral, Aunt Julia and the Scriptwriter, The War of the End of the World, Death in the Andes—পঞ্চাশেরও বেশি উপন্যাসে ফুটে উঠেছে তাঁর সমাজ, রাজনীতি, এবং মানবিক মনস্তত্ত্বের গভীর বিশ্লেষণ।

পেরুতে জন্ম হলেও মারিয়োর শৈশব কেটেছে বলিভিয়া ও স্পেনে। পরে দীর্ঘ সময় মাদ্রিদ ও প্যারিসে কাটিয়েছেন। তরুণ বয়সে ফিদেল কাস্ত্রোর আদর্শে প্রভাবিত হলেও পরে তাঁর প্রতি হতাশা জন্মায়। এই আদর্শগত ভাঙনই পরবর্তীকালে দূরত্ব তৈরি করে দেন তাঁর বন্ধু ও সমসাময়িক লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ়-এর সঙ্গে। এমনকি ১৯৭৬ সালে মেক্সিকোর এক প্রেক্ষাগৃহে মার্কেজ়কে ঘুষি মারার ঘটনাও আজ সাহিত্য-ইতিহাসের অংশ।

আরও পড়ুনঃ গানের সুরে বাংলার নববর্ষে, নবহর্ষ নিয়ে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Advertisement
ads

তবে বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। ধীরে ধীরে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন মারিয়ো। ১৯৮৩ সালে পেরুর সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড তদন্ত কমিশনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। ১৯৯০ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন। নারীবাদ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবুও, তাঁর কলম কখনও চুপ ছিল না। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং মানবাধিকারের পক্ষে ছিল তাঁর লেখার দৃঢ় অবস্থান।

২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি—যেখানে প্রায় তিন দশক আগে ১৯৮২ সালে সেই সম্মান পেয়েছিলেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কেজ়। বিতর্কের আবরণে মোড়া এই সাহিত্যিকের জীবনাবসানে সাহিত্যজগতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটল, রেখে গেল অসংখ্য প্রশ্ন, আলোচনার খোরাক এবং অবশ্যই অসাধারণ সব সাহিত্যকীর্তি।