ডিজিটাল ডেস্ক: ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যে তোলপাড় চলছিল দীর্ঘদিন। এবার সেই হিংসার জেরে দায়ের হওয়া ধর্ষণের এক মামলায় দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল মালদহ জেলা আদালত। চার বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলেন শাসকদলের (TMC) প্রাক্তন নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম (Rafikul Islam)। শুক্রবার তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালত (ADJ Court)।
ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ৫ জুন, ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে। অভিযোগ, মানিকচক ব্লকের এক বিজেপি সমর্থকের (BJP Supporter) নয় বছরের মেয়েকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন রফিকুল ইসলাম। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এমন জঘন্য অপরাধ, এমনটাই দাবি নির্যাতিতার পরিবারের। সেই সময়ই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ, তারপর থেকে তিনি জেলবন্দি। পরবর্তীতে মামলাটি হস্তান্তর হয় সিবিআইয়ের (CBI) হাতে, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে।
আরও পড়ুনঃ গণধর্ষণ কাণ্ডের মধ্যেই খুলছে কলেজ! সোমবার থেকে পঠনপাঠনের পথে কসবা ল কলেজ
মামলায় পকসো (POCSO) আইনে বিচার হয়। সিবিআইয়ের আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র (Amitabh Maitra) জানান, ২২ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিচারক রাজীব সাহা (Rajib Saha) অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং শুক্রবার ঘোষণা হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা।
এটি সিবিআই তদন্তাধীন ভোট-পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) প্রথম মামলায় সাজার রায়। সিবিআইয়ের মতে, এটি একটি নজিরবিহীন রায়, যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
নির্যাতিতার মা বলেন, “আমাদের অপরাধ একটাই— আমরা বিজেপি করতাম। তার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল মেয়েকে ধর্ষণ করে।” মেয়েটি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবার এখনও আতঙ্কে দিন কাটায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রফিকুল আগে সিপিএম করতেন, পরে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC)। আদালতের এই রায়ে পরিবার কিছুটা স্বস্তি পেলেও, তাদের চোখে এখনও স্পষ্ট সেই বিভীষিকার ছাপ।