পুজোতে জোটে নি নতুন জামা, রাস্তায় সবজি বিক্রি করছে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাজদীপ পুজোতে জোটে নি নতুন জামা, রাস্তায় সবজি বিক্রি করছে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাজদীপ
পুজোতে জোটে নি নতুন জামা, রাস্তায় সবজি বিক্রি করছে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাজদীপ

পুজোতে জোটে নি নতুন জামা, রাস্তায় সবজি বিক্রি করছে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাজদীপ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : ৮ অক্টোবর : পুজোতে নতুন জামা কাপড় পড়ে ঠাকুর দেখার ইচ্ছে কার না করে? অথচ এখনও একপিস জামাও জোটে নি রাজদীপের৷ বাড়িতে বড্ড অভাব। বাবা সঞ্জয় তরফদার চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে সন্দীপ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট ছেলে রাজদীপ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যুগে যেখানে সংসার চালানোই দায়, সেখানে  চা বিক্রি করে নতুন জামা কাপড় জোটানো কার্যত অসম্ভব ব্যাপার সঞ্জয়বাবুর কাছে। ফলে দুই ছেলের কাউকেই একটা জামাও কিনে দিতে পারেন নি তিনি। উল্লেখ্য পুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। দোকানে দোকানে তাই উৎসব প্রিয় বাঙালির ভিড়। কাপড় থেকে শুরু করে জুতোর দোকানে উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি পুরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সঞ্জয় তরফদারের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়৷ আর্থিক অনটনকে সঙ্গী করে কোনও রকমে দুই ছেলে স্কুলে পড়িয়ে মানুষ করার চেষ্টা করছেন তিনি৷ করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুল থেকেও এবছর জামা মেলে নি রাজদীপের। না হলে সেই জামা পড়েই না হয়ত পুজোতে ঠাকুর দেখত সে। কিন্তু তাও সম্ভব হয় নি। এমতাবস্থায় মন খারাপ নিয়ে রাজদীপ সব্জি নিয়ে বসছে বাবার চায়ের দোকানের সামনে। প্রতিদিন সকালে রাস্তার ধারে কচু, শাক সহ অন্যান্য সবজি নিয়ে বাজারে চলে যায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাজদীপ। রাজ্য সরকার মানব কল্যানে অসংখ্য প্রকল্প চালু করলেও ছোট্ট রাজদীপের মতন শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারি নি। তাই দাদা সন্দীপও চায়ের দোকানে বাবার সাথে কাজে হাত লাগিয়েছে। এদিন কথা বলার সময় রাজদীপের গলা থেকে বেরিয়ে এল নতুন জামা না মেলার যন্ত্রণা। রাজদীপ মন খারাপ নিয়ে এদিন বলে, বাড়িতে প্রচণ্ড অভাব। বাবা এখনও নতুন জামা কিনে দিতে পারে নি। আমরা দুই ভাইকেও কেউ নতুন জামা দেয় নি। তাই সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে জামা কিনব।’’


Comments are closed.

২০২০ কপিরাইট সংরক্ষিত আরসি টিভি সংবাদ
error: Content is protected !!