‘Suspicious Sign-in Alert’ ইমেলে লুকিয়ে ফিশিং জাল, বিপদে জিমেইল ব্যবহারকারীরা
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘Suspicious Sign-in Alert’ ইমেলে লুকিয়ে ফিশিং জাল, বিপদে জিমেইল ব্যবহারকারীরা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ডিজিটাল যুগে (Digital Era) সাইবার প্রতারণা (Cyber Crime) বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। নিত্যনতুন ফাঁদে পড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীরা আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য হারাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এদিকে সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি গুগলের (Google) নাম ব্যবহার করে বাড়ছে ভুয়ো নিরাপত্তা সতর্কবার্তার (Fake Security Alert) প্রবণতা। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন জিমেইল (Gmail) ব্যবহারকারীরা।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতারকরা বর্তমানে এমন ইমেল পাঠাচ্ছে যা হুবহু গুগলের অফিসিয়াল সতর্কবার্তার (Official Security Warning) মতো। বার্তায় সাধারণত লেখা থাকে—“Suspicious Sign-in Alert”। আতঙ্কিত ব্যবহারকারী দ্রুত ইমেলের দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে বসেন। সেখানেই শুরু হয় আসল প্রতারণা। ওই লিঙ্কে ঢুকলেই খোলে নকল লগইন পেজ (Fake Login Page)। ব্যবহারকারী সেখানে পাসওয়ার্ড দিলে তা সরাসরি প্রতারকদের হাতে চলে যায়।

প্রায় ২৫০ কোটি জিমেইল ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র ৩৬ শতাংশ নিয়মিতভাবে পাসওয়ার্ড আপডেট করেন—গুগলের সমীক্ষা বলছে এ তথ্য। এই দুর্বলতাকেই টার্গেট করছে প্রতারকরা। শুধু ভুয়ো ইমেল নয়, অনেক সময় হ্যাকাররা গুগলের কর্মী সেজেও ফোন বা মেসেজ করে। এমনকি এআই ভয়েস ক্লোন (AI Voice Clone) ব্যবহার করে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা হয়।

Advertisement
ads

প্রতারকদের ফাঁদে ফেলার কৌশল—
১. ভুয়ো সতর্কবার্তা পাঠানো: আপনার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক সাইন-ইন ধরা পড়েছে বলে দাবি।
২. লিঙ্কে ক্লিক করানো: দেওয়া লিঙ্কে ঢুকলেই নকল লগইন পেজ।
৩. তথ্য হাতিয়ে নেওয়া: পাসওয়ার্ড বা গোপনীয় তথ্য সরাসরি প্রতারকদের কাছে পৌঁছে যায়।

এ ছাড়াও আরও নানা কৌশলে প্রতারণা হয়—

  • ফ্রি গিফট অফার: বিনা মূল্যে পুরস্কার বা উপহার জেতার প্রলোভন।

  • ভুয়ো সাবস্ক্রিপশন ক্যানসেল মেসেজ: সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করতে লিঙ্কে ক্লিক করার নির্দেশ।

  • নকল টেক সাপোর্ট কল: দাবি করা হয়, আপনার অ্যাকাউন্ট বা কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে।

কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?

  • ইমেলে আসা লিঙ্কে ক্লিক করার আগে অবশ্যই প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করুন।

  • সন্দেহজনক ইমেল পেলে সরাসরি accounts.google.com এ লগইন করে সিকিউরিটি ট্যাব চেক করুন।

  • নিয়মিত জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তন করুন।

  • টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন (Two-Step Verification) চালু রাখুন।

  • অচেনা উৎস থেকে আসা অ্যাটাচমেন্ট কখনও ডাউনলোড করবেন না।

  • ব্রাউজারের পরিবর্তে অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল ব্যবহারকারীর সচেতনতা। তাই ভুয়ো সতর্কবার্তায় বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থেকে প্রতিটি পদক্ষেপ নিলেই রক্ষা সম্ভব।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement