কৃষক আন্দোলনে নতুন মোড়, অনশন ভেঙে আন্দোলনের কৌশল বদলের ইঙ্গিত দাল্লেওয়ালের
Connect with us

স্বাস্থ্য

কৃষক আন্দোলনে নতুন মোড়, অনশন ভেঙে আন্দোলনের কৌশল বদলের ইঙ্গিত দাল্লেওয়ালের

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ১৩১ দিন টানা অনশনের পর রবিবার, পঞ্জাবের ফতেগড় সাহিব জেলার সিরিন্দে কিষান মহাপঞ্চায়েতের মঞ্চ থেকে অনশন প্রত্যাহার করলেন কৃষক নেতা জগজিৎ সিং দাল্লেওয়াল। ১২ দফা দাবিকে সামনে রেখে গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে অনশন শুরু করেছিলেন তিনি। তার মধ্যে প্রধান দাবি ছিল, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যকে (MSP) আইনি গ্যারান্টি দেওয়া।

অনশন ভাঙার সময় আবেগতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই আমাকে অনশন প্রত্যাহার করতে বলেছিলেন। আমি আপনাদের আবেগ ও আদেশকে সম্মান জানাই। কৃষকদের দাবি আদায়ে লড়াই চলবে। এই অনশন ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, এটি ছিল কৃষকদের অধিকার রক্ষার আত্মত্যাগ।”

সরকারের সঙ্গে সংলাপের বার্তা

শনিবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং রেল প্রতিমন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান দাল্লেওয়ালকে। কৃষক নেতাও জানান, পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৪ মে কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দাবি নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা থাকবে।

Advertisement
ads

কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

২০২০ সালে বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল হলেও কৃষকদের মূল দাবি ছিল এমএসপি-র আইনি স্বীকৃতি, কৃষিঋণ মকুব, বিদ্যুৎ বিল সংশোধন আইন প্রত্যাহার, এবং আন্দোলনের সময় নিহত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ। সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদেই এই অনশনের পথ বেছে নিয়েছিলেন দাল্লেওয়াল, যিনি সম্মুক্ত কিষাণ মোর্চা এবং কিষাণ মজদুর মোর্চার যুগ্ম ফোরামের নেতা।

অনশন ভাঙলেও থামেনি আন্দোলন

দীর্ঘ অনশনের ফলে দাল্লেওয়ালের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে। কৃষকদের পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও অনুরোধে শেষমেশ তিনি অনশন ভাঙেন। যদিও আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরছেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এখন সময় সংগঠিতভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। এই যাত্রা এখানেই শেষ নয়।”

Advertisement
ads

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

অনশনের পাশাপাশি দিল্লিমুখী পদযাত্রারও ডাক দিয়েছিল কৃষকরা। দিল্লি সীমান্তে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশের গুলিতে কৃষকদের মৃত্যুর অভিযোগও ওঠে। আন্দোলনের আবহে পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, অনশন শেষ হলেও দাবিগুলি নিয়ে চাপ বজায় রাখা হবে। কেন্দ্র যদি আলোচনায় সমাধান না করে, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

Continue Reading
Advertisement