চোপড়া
পরিবারের অমতে বিয়ে! জীবিত মেয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান চোপড়ায়
নিউজ ডেস্ক: এই ঘটনা হয়তো প্রথমবার ঘটলো উত্তর দিনাজপুরে। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় ভয়ঙ্কর পরিণতি। জীবিত মেয়েকে মেরে ফেললেন পরিবারের লোকজন! ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
জানা গিয়েছে, গত ৯ মার্চ অর্থাৎ রবিবার প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তরুণী। তারপর বিয়েও সারেন। এরপর পরিবারের তরফে নিখোঁজের ডায়েরি করা হয় চোপড়া থানায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজের ডায়েরির পর মেয়েকে উদ্ধার করাও হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সাবালিকা মেয়ের জবানবন্দি নিয়ে তাঁর ইচ্ছায় নতুন সংসারে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। যেটা একেবারে মেনে নিতে পারেননি পরিবারের লোকজন।
নিজের পরিবারের লোকজনের অমতে বিয়ে করায় জীবিত মেয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করলেন পরিবারে লোকজন। যেমনটা জানতে পারা যাচ্ছে, মেয়ে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করায়, তাতে পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সম্মান হানি হয়েছে। তাই মেয়েকে মৃত বলে গণ্য করে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন – হোলির আনন্দ ম্লান, বরসানায় মহিলাদের প্রতি অশোভন আচরণ
শুধু তাই নয়। একেবারে নিয়ম মেনে এদিন শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন হয় চোপড়ায়।
নিয়মিত শ্রাদ্ধে মন্ত্র পাঠের জন্য পুরোহিত দিয়ে মন্ত পথ করানো হয় এদিন। এমনকি যজ্ঞও করা হয়। পাশাপাশি গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
তবে এমন ঘটনায় ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিবারের লোকজন। স্থানীয়দের বক্তব্য, এমন ঘটনা গ্রামের সামাজিক শান্তি ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী দিনে গ্রামে এধরনের কোনও ঘটনা ঘটবে না। অপরদিকে মেয়েটির পরিবার জানিয়েছে, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যাতে আগামী দিনে গ্রামের আর কোনও মেয়ে এভাবে পরিবারের অমতে অন্য ছেলের হাত ধরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে সাহস না পায়, তাই এই ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন – নিজের মেয়েকে রাস্তায় আছাড় মেরে খুন! গ্রেফতার অভিযুক্ত বাবা
