গত কয়েক মাস আগে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) অপসারণের পর ছাত্রদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিসিবির পরিচালন সমিতির বেশিরভাগ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন। এর পর ফারুক আহমেদকে সভাপতি করে মহম্মদ ইউনুস একটি মনোনীত কমিটি গঠন করেন। তবে আইসিসির (ICC) নিয়ম অনুসারে, কোনো বোর্ড অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মনোনীত সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না, ফলে বিসিবির ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুনঃ চাকরি ফিরে পেতে পরীক্ষায় অনীহা, পথে ফের উত্তাল ‘যোগ্য’ আন্দোলনকারীরা
নাজমূল হাসান পাপন (Nazmul Hasan Papon) পদত্যাগের পর বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সও সন্তোষজনক হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) বিরুদ্ধে সিরিজ হারের মতো মর্মান্তিক ফলাফল এবং স্পনসর না পাওয়ার কারণে বিসিবি আর্থিক সংকটেও পড়েছে। সবমিলিয়ে ফারুক আহমেদের ওপর চাপ বাড়ছিল।
এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ফারুক আহমেদকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। তবে ফারুক তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পদত্যাগ করব না। সরকার আমাকে আর বিসিবি সভাপতি রাখতে চায় না বলে জানিয়েছে, কিন্তু কেন তা জানায়নি। বিনা কারণে আমি পদত্যাগ করব না।”
তবু ফারুকের আপত্তি কোনো কাজে আসেনি। বৃহস্পতিবার রাতেই বিসিবির ৮ পরিচালক ফারুকের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে (Asif Mahmud Sojib Bhuiyan) একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির ভিত্তিতে সরকার ফারুকের বিসিবি পরিচালক পদ বাতিল করে তাকে সরিয়ে দেয়।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বোর্ডের সভাপতি নির্বাচিত হন পরিচালকদের মধ্য থেকে। তাই পরিচালক পদ হারানোর ফলে ফারুকের সভাপতি পদও বাতিল হয়ে যায়। সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে ৮ পরিচালকের অনাস্থা এবং বিপিএলের (BPL) অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়েছে।
তবে ফারুক দাবি করেছেন, তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি এবং আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকার শুধু তাঁর বিসিবির পরিচালক পদ বাতিল করেছে।