চাকরি ফিরে পেতে পরীক্ষায় অনীহা, পথে ফের উত্তাল ‘যোগ্য’ আন্দোলনকারীরা
Connect with us

রাজ্যের খবর

চাকরি ফিরে পেতে পরীক্ষায় অনীহা, পথে ফের উত্তাল ‘যোগ্য’ আন্দোলনকারীরা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে। ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর ডাকে নবান্ন অভিযানের উদ্দেশ্যে জমায়েত শুরু করেন ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্যানেলের চাকরিহারারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শিয়ালদহ থেকে মিছিল করে নবান্ন যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল আন্দোলনকারীদের। তবে মিছিল শুরুর আগেই পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একাধিক চাকরিপ্রার্থীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ।

চাকরিহারাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে গিয়েও পুলিশ অকারণে হেনস্থা করছে। এমনকি সাধারণ নিত্যযাত্রীদেরও আন্দোলনকারী ভেবে আটকের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর কার্যত পুলিশে মোড়া থাকে। একইভাবে ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা।

এই পরিস্থিতির মূলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়। গত এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে আদালত। ফলস্বরূপ, প্রায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থী চাকরি হারান। তাঁদের মধ্যে একাংশের দাবি, একবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার পর ফের পরীক্ষায় বসা অনুচিত। সেই দাবি নিয়েই লাগাতার আন্দোলন চলছে কলকাতায়।

তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আন্দোলন করে নয়, পরীক্ষার মাধ্যমেই ফের চাকরি পেতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
ads ads

আরও পড়ুনঃ “আপনি তো সবার স্বামী নন, আগে নিজের স্ত্রীকে সিঁদুর দিন”— মমতার কটাক্ষের পর ভাইরাল মোদীর স্ত্রী!

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ স্তরে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওএমআর শিট দুই বছর সংরক্ষিত থাকবে, স্ক্যান করা কপি রাখা হবে ১০ বছর পর্যন্ত। প্রার্থীরা ওয়েবসাইট থেকে নিজ নিজ ওএমআর শিট দেখতে পারবেন। এছাড়া এবার শিক্ষকতার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সরকার যখন নতুন নিয়োগের পথে এগোচ্ছে, তখন চাকরি হারানো শিক্ষকেরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের পুরনো দাবি নিয়ে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পথে নামায় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এই অবস্থায় আগামী দিনে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্য জুড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।

Advertisement
ads ads