ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, এই বিচার সারা বিশ্বে সরাসরি সম্প্রচার (live telecast) করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা শুনানি দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সরকার সমস্ত দূতাবাসকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি দেশের টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন নিউজ মাধ্যমগুলোকে বিচার কার্যক্রম প্রচার করার বাধ্যতামূলক নির্দেশনা আসতে পারে। সরকারের লক্ষ্য ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড প্রমাণ করার জন্য বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন করা।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্য অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে সরকার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম (Gazi M H Tamim) জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তদের বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশের জবাব না পেলে দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর সাত দিনের মধ্যে সাড়া না আসলে ‘পলাতক’ ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুনঃ দলের আইনি দায়িত্বে নতুন অধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে তৃণমূলের বড় সিদ্ধান্ত
নিয়ম অনুযায়ী পলাতক ঘোষিত অভিযুক্তদের জন্যও সরকার আইনজীবী নিয়োগ করবে, যাঁরা তাঁদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা নিজেই আইনজীবী নিয়োগের অধিকার রাখবেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্না (Z I Khan Panna) ইতিমধ্যে হাসিনার পক্ষে মামলা লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও তাঁর লিখিত সম্মতি ছাড়া তিনি মামলা চালাতে পারবেন না।
অভিযুক্তরা মামলায় অংশগ্রহণ করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা ট্রাইব্যুনাল বয়কটের কথাও বলেছেন, তবে দল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ পায়নি।
শেখ হাসিনা ও অন্য তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি হত্যা ও হিংসা সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথিতে শেখ হাসিনাকে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনকাণ্ডে ‘মাস্টারমাইন্ড’, ‘হুকুমদাতা’ ও ‘সুপিরিয়র কমান্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫০ জন সাক্ষ্য দেবে এবং তদন্তকারী দল ডিজিটাল নথি, টেলিফোনে নির্দেশের অডিও ক্লিপ, বৈঠকের অডিও-ভিডিও রেকর্ডসহ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।
গত বছরের ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেখ হাসিনা একটি সাংবাদিক বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা, নাতি-পুতি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা মামলায় উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, এই বক্তব্য দিয়ে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে হত্যায় উসকানি দিয়েছেন।
সরকারি ও বিচার সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মামলার শুনানি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক মনোযোগ পাবে এবং বাংলাদেশ সরকার এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বৈরাচারিতা প্রমাণের চেষ্টা করবে।