দেশ
পৃথক রাজ্যের দাবিতে উত্তাল লাদাখ, সংঘর্ষে মৃত ও আহত বহু
ডিজিটাল ডেস্কঃ পৃথক রাজ্যের স্বীকৃতি ও ষষ্ঠ তফসিলের (Sixth Schedule) আওতাভুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তাল লাদাখ। সেই আন্দোলন বুধবার সকালে রূপ নেয় ভয়ঙ্কর হিংসায়। লেহ (Leh)-তে ছাত্র ও যুবদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হঠাৎ করেই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া হয়, জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ ভ্যান ও বিজেপি কার্যালয়। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪ জন। আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সকালে LAB-এর (Leh Apex Body) যুব শাখার ডাকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ হামলাকারীদের আটকাতে গেলে ছোড়া হয় পাথর। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ছোড়ে কাঁদানে গ্যাস (Tear Gas)। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন।
মূলত, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir) থেকে লাদাখকে আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Union Territory) ঘোষণা করার পর থেকেই ধীরে ধীরে জমতে থাকে অসন্তোষ। লাদাখের মানুষ চায় আবার রাজ্যের মর্যাদা (Statehood) এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা। তাদের দাবি, ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে জমি, সংস্কৃতি ও সম্পদের সুরক্ষা দিতে হবে।
এই দাবিতেই কয়েক সপ্তাহ আগে আন্দোলনে যোগ দেন পরিবেশ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তিনি নিজেও অনশনে বসেন। LAB-এর দুই সদস্যও ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন করছিলেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। তার পর থেকেই চরমে ওঠে বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার ও প্রশাসন তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিজেপি অফিসে (BJP Office) হামলা এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতেও সেই হিংসার চিত্র উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। লাদাখে সাম্প্রতিক সময়ে এটাই সবচেয়ে বড় হিংসাত্মক সংঘর্ষ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্র সরকার ৬ অক্টোবর LAB ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছে।


