অপারেশন সিঁদুর
পাকিস্তানের অভিযোগের জবাব দিতে আমেরিকায় ভারতের সর্বদলীয় মিশন
ডিজিটাল ডেস্কঃ অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েন যেন এক রুদ্ধশ্বাস কূটনৈতিক ক্রিকেট ম্যাচ। মাঠে না হলেও ময়দান এবার ওয়াশিংটনের (Washington) বৈঠক কক্ষ। দুই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুই অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও রাজনীতিক—ভারতের শশী থারুর (Shashi Tharoor) ও পাকিস্তানের বিলাওয়াল ভুট্টো (Bilawal Bhutto)। এই লড়াই শুধু বক্তব্য পেশ করার নয়, আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি ও সমর্থন পাওয়ারও।
মঙ্গলবারই আমেরিকায় পৌঁছেছে ভারত ও পাকিস্তানের সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল। অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিবাদকে কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত ভারতীয় প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে, পাকিস্তানও তাদের পক্ষ ব্যাখ্যা করতে সক্রিয়। বুধবার রাতভর এই দুই দলের মার্কিন প্রশাসন, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হওয়ার কথা।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় পা রেখেও জয়শঙ্করের বৈঠকে অনুপস্থিত অভিষেক
ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা শশী থারুর, যিনি একসময় রাষ্ট্রসংঘে উচ্চপদে কাজ করেছেন এবং দেশের প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী, আগেই জানিয়ে দিয়েছেন—এই সফরের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা। তিনি বলেন, “পাকিস্তান তিনটি দেশে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, আর ভারতীয় দল ৩৩টি দেশে গিয়েছে। এককথায়, ভারতের বার্তা অনেক বেশি সুসংগঠিত ও কার্যকর।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিলাওয়াল ভুট্টো, পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার, খুররম দস্তগীর এবং তিন প্রাক্তন বিদেশ সচিব। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য রেখে ভারতকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বিলাওয়াল। তিনি রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
ভারতের তরফে তুলে ধরা হচ্ছে পহেলগামে জঙ্গি হামলা, অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের কঠোর অবস্থান। অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’ বলে দাবি করেছে—যার অর্থ ‘অভেদ্য প্রাচীর’। তারা দাবি করেছে, ভারতের আকাশ প্রতিরোধ ভাঙা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বরাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র ওয়াশিংটনে ভারতের এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের একসঙ্গে উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এই কূটনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়েছে। তবে শশী থারুর স্পষ্ট করেছেন, “ওয়াশিংটন এমন একটি শহর যেখানে গোটা বিশ্ব নিয়ে আলোচনা হয়। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু বার্তা পৌঁছে দেওয়া, মিডিয়ার গুরুত্ব পাওয়াই মুখ্য নয়।”
এই ম্যাচে গোল নেই, কিন্তু রয়েছে প্রভাব, কূটনৈতিক মানচিত্রে জায়গা, এবং যুদ্ধ না করেও লড়াই জয়ের কৌশল। ভারত-পাকিস্তানের এই ‘কূটনৈতিক ক্রিকেট ম্যাচ’-এর দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও।
