খেলার খবর
এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত, বয়কটের ডাকের মাঝেই যুক্তি দিল বিসিসিআই
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এশিয়া কাপের (Asia Cup) গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বয়কটের (Boycott) আহ্বান। পহেলগাঁওয়ে (Pahalgam) সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই ম্যাচ ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বিসিসিআই (BCCI)-এর সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া (Debajit Saikia)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত এই ম্যাচ বয়কট করবে না, কারণ এটি একটি বহুপাক্ষিক প্রতিযোগিতা (Multilateral Tournament)।
তিনি বলেন:
“ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করত, তাহলে ভবিষ্যতে অলিম্পিক (Olympics) এবং কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games)-এর মতো ইভেন্ট আয়োজনের স্বপ্ন ধাক্কা খেত।”
বিরোধীদের ক্ষোভ
এই অবস্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী দলগুলি।
-
শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেন, “রক্তপাত এবং ক্রিকেট একসঙ্গে চলতে পারে না।”
-
মহারাষ্ট্র কংগ্রেস এটিকে শহিদদের প্রতি অপমান বলে আখ্যা দিয়েছে।
-
উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “এই ম্যাচ বয়কট করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া যেত।”
তিনি আরও জানান, মহারাষ্ট্র জুড়ে ‘সিঁদুর’ বিক্ষোভ (Sindoor Protest) শুরু হবে।
“সীমান্তে যখন আমাদের জওয়ানরা প্রাণ দিচ্ছেন, তখন কি আমাদের পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা উচিত?” — প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
-
দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ (Saurabh Bharadwaj) প্রতীকীভাবে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের কুশপুতুল দাহ করেন।
-
তিনি বলেন, “পহেলগাঁও হামলায় যাঁরা স্বামী হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে এই ম্যাচ অপমানজনক।”
এদিকে AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি (Asaduddin Owaisi) বলেন,
“কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক লাভ কি মানুষের প্রাণের চেয়ে মূল্যবান?”
অতীতের নজির
এর আগেও একাধিকবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক কারণে দেশ বয়কট করেছে ম্যাচ—
-
১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক (Moscow Olympics) বয়কট করেছিল আমেরিকা সহ ৬৬টি দেশ
-
রাশিয়া (Russia) বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বহু প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ
-
ভারতের পক্ষ থেকেও এক সময় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রাজনৈতিক শীতলতার কারণে এশিয়া কাপে অংশ না নেওয়ার নজির রয়েছে
তবে বিসিসিআই-এর মতে, বর্তমান ম্যাচ বয়কট করলে ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে অবস্থান দুর্বল হতে পারে। তাই সরকারি নীতিমালা (Policy) মেনেই খেলছে ভারত।
