খেলার খবর
পাকিস্তানকে লক্ষ্য করেই সিদ্ধান্ত, এশিয়া কাপ থেকে নাম তুলতে পারে ভারত
ডিজিটাল ডেস্কঃ এশিয়া কাপ (Asia Cup) ২০২৫ আয়োজন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক ভারত-পাক উত্তেজনার আবহে এবার এই টুর্নামেন্ট থেকেও ভারত সরে দাঁড়াতে পারে বলে বিসিসিআইয়ের (BCCI) একটি সূত্র জানিয়েছে। মূল আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (Asian Cricket Council) বর্তমান প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi), যিনি পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী এবং একইসঙ্গে পাক ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) চেয়ারম্যান।
বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ আধিকারিক সাফ জানিয়েছেন, এমন এক সংস্থার আয়োজিত টুর্নামেন্টে ভারত অংশ নেবে না যার নেতৃত্বে রয়েছেন কোনও পাকিস্তানি নেতা। তাঁর কথায়, “এটা শুধু ক্রিকেট নয়, গোটা দেশের আবেগের সঙ্গে জড়িত। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় শহিদ হয়েছেন একাধিক ভারতীয়। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে পাকিস্তান-বিরোধী জনমত প্রবল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড চাইছে না, পাকিস্তানের উপস্থিতি রয়েছে এমন কোনও টুর্নামেন্টে অংশ নিক ভারতীয় দল।
এটা নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও (Champions Trophy) পাকিস্তান আয়োজক হলেও বিসিসিআই সাফ জানিয়েছিল, ভারতীয় দল করাচি বা লাহোরে খেলবে না। পরে দুবাইতে ওই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রোহিত শর্মারা ফাইনাল জিতে ট্রফিও ঘরে তোলেন।
সূত্র বলছে, এইবার শুধু শর্ত চাপিয়ে নয়, পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের দিকেও এগোচ্ছে বিসিসিআই। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের এশিয়া কাপ থেকেও ভারত নিজেদের নাম তুলে নিতে পারে।
ভারত এশিয়া কাপে না খেললে তা শুধুই কূটনৈতিক বার্তা নয়, বড়সড় আর্থিক ধাক্কাও। কারণ, টুর্নামেন্টের বড় স্পনসররা সবাই ভারতীয় সংস্থা। সম্প্রচার অধিকার কিনেছে Sony Pictures Network, যারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ভারত-পাক ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাজিয়েছে। ভারত না থাকলে সে পরিকল্পনায় টান পড়বে নিশ্চিত।
বিসিসিআই-এর অবস্থান স্পষ্ট
বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। বোর্ডের এক কর্তা বলেন, “আমরা কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করি না। কিন্তু নিরাপত্তা ও দেশের আবেগের কথা মাথায় রেখে আমাদের অবস্থান কঠোর। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বে থাকা কোনও সংগঠনের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় আমরা খেলব না।”
এই অবস্থায় এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ যে বিপদের মুখে পড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারত না থাকলে গোটা প্রতিযোগিতার আকর্ষণ এবং আর্থিক লাভ—দুটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
