রায়গঞ্জ
পরীক্ষা আসন্ন, নেই শিক্ষক— দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন করোনেশন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক
ডিজিটাল ডেস্কঃ শিক্ষকতা শুধুই পেশা নয়, এক নিঃস্বার্থ ব্রত। আর সেই ব্রতকেই জীবনের মন্ত্র করে নিঃস্বার্থভাবে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরলেন রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত জীববিদ্যার শিক্ষক সৌমিত্র মজুমদার (Soumitra Majumdar)। ২০১৭ সালে অবসর নেওয়ার পরও বিদ্যালয়ের সংকটে পাশে দাঁড়িয়ে ফের chalk হাতে তুলে নিয়েছেন ষাটোর্ধ এই শিক্ষক।
৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের পর বিশ্রামের বদলে ফের ক্লাসে ফিরে আসার কারণ একটাই—দায়িত্ববোধ। বিদ্যালয়ের জীববিদ্যা বিভাগে শিক্ষকের ঘাটতি চরমে। আগে একজন মাত্র শিক্ষিকা ছিলেন, কিন্তু ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরি বাতিল হয়েছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোনও শিক্ষক না থাকায় সমস্যায় পড়ে পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুনঃ ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষ না নাটক? কাতারে সংঘর্ষের পর মুখ খুললেন ট্রাম্প
বিদ্যালয়ের তরফে অনুরোধ আসতেই এক মুহূর্ত দেরি না করে এগিয়ে আসেন সৌমিত্রবাবু। ২ জুন থেকে নিয়মিত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জীববিদ্যার ক্লাস নিচ্ছেন তিনি। তাঁর এই নিষ্কাম সহায়তা ও কর্তব্যবোধে মুগ্ধ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়ারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কালীচরণ সাহা জানান, “বিভাগীয় শূন্যতা প্রায় অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। এই পরিস্থিতিতে সৌমিত্রবাবুর মতো শিক্ষাদরদী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।”
অন্যদিকে, একাদশ শ্রেণির ছাত্র আদৃত সরকার জানায়, “আমরা খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। জীববিদ্যা নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কীভাবে হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সৌমিত্র স্যার ক্লাস নেওয়া শুরু করায় এখন আমরা নিশ্চিন্ত।”
নিজের এই ফিরে আসাকে কোনও গৌরব নয়, বরং কর্তব্য বলেই মনে করেন সৌমিত্রবাবু। বলেন, “এই স্কুল আমার প্রাণ। প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোটা আমার দায়িত্ব। সিলেবাস শেষ করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করাটাই আমার মূল লক্ষ্য।”
এক শিক্ষকের নিঃস্বার্থ কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতাই যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল— “কর্মই ধর্ম”।
