ভাইরাল খবর
একটি যুগের অবসান: ইস্কোর কুলিং টাওয়ার এখন শুধুই স্মৃতি আর ছবি
ডিজিটাল ডেস্কঃ মাত্র কয়েক সেকেন্ড। আর তাতেই ইতিহাস হয়ে গেল আসানসোলের পরিচিত পাঁচটি কুলিং টাওয়ার। রবিবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিট। হঠাৎ করেই বেজে উঠল সাইরেন। শুরু হলো কাউন্টডাউন। “দশ… নয়… আট…” — ক্রমশ উলটো গোনা কমতে কমতে শূন্য উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে গেল ইস্কোর ( Indian Iron & Steel Company) পাঁচটি সুবিশাল কুলিং টাওয়ার।
এ যেন নিখুঁত সময় মেনে ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত। কয়েক দশকের পুরনো স্থাপত্য চোখের সামনে ধসে পড়ার সেই দৃশ্য দেখে অনেকেরই চোখ ভিজে উঠল। চৈত্রের দাবদাহের মধ্যে আসানসোলবাসীর মনে ছড়িয়ে পড়ল একরাশ বিষণ্ণতা।
রবিবার দুপুরে আসানসোলের ইন্ডিয়ান আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানির (ইস্কো) চত্বরে এই টাওয়ার ভাঙার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল বিস্ফোরণের। শনিবার থেকেই টাওয়ারগুলিতে বিশেষ বিস্ফোরক যন্ত্র লাগানো হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এবং উচ্চ সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই ভাঙার কাজ সম্পন্ন হয়।
কুলিং টাওয়ার ভাঙার কাজ শুরুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে বাজানো হয় সতর্কতামূলক সাইরেন। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, জেলাশাসক ও সিআইএসএফ (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স)কে জানিয়ে নেওয়া হয়েছিল সব কিছু। কুলিং টাওয়ারগুলির আশেপাশের এলাকাও খালি করে দেওয়া হয়। এই পাঁচটি টাওয়ার নির্মিত হয়েছিল ১৯২২ সালে। ১৯৩৬ সালের মধ্যে শেষ হয় নির্মাণ কাজ। রাজেন্দ্রপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পুত্র বীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ফসল ছিল ইস্কো(IISCO) কারখানা। তাঁদের হাত ধরেই আসানসোল পরিণত হয়েছিল শিল্প শহরে। এই কুলিং টাওয়ারগুলি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হতো। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, বদলে গেছে প্রয়োজন। ফলে এই কাঠামোগুলি অকেজো হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃজাল ওষুধের কারবার রুখতে পদক্ষেপ! ওষুধ, ইনজেকশন ব্যবহারে নথিভুক্ত ব্যাচ নম্বর
ইস্কো(IISCO) কারখানার আধুনিকীকরণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে সাত মিলিয়নে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর সেই আধুনিকীকরণের পথেই রূপান্তরিত করা হচ্ছে পুরনো কাঠামো। তারই অংশ হিসাবে কুলিং টাওয়ার ভাঙার সিদ্ধান্ত। প্রায় সাড়ে তিনশো কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় টাওয়ারগুলি। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয়দের। বহু মানুষ শেষবারের মতো দেখতে এসেছিলেন শহরের স্মৃতিচিহ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাম্পি রায়ের কথায়, “ছোটবেলা থেকে এই কুলিং টাওয়ারগুলিকে দেখে বড় হয়েছি। বাইরে কোথাও গেলে গর্ব করে বলতাম, আমাদের শহরে গম্বুজের মতো সুন্দর টাওয়ার আছে। সেই গর্বটাই আজ হারিয়ে গেল।” ইস্কো (IISCO)-র ইতিহাসে একটি অধ্যায় আজ শেষ হলো। তবে তা শুধুই অতীত নয়, ইতিহাস ও স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে বহু মানুষের হৃদয়ে।
