“স্বপ্ন ভেঙেছে আদালতে, আশা বাঁচিয়ে রাজপথে—ফিরে পেতে চান নিজেদের সম্মান
Connect with us

কলকাতা

“স্বপ্ন ভেঙেছে আদালতে, আশা বাঁচিয়ে রাজপথে—ফিরে পেতে চান নিজেদের সম্মান

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ছিন্নভিন্ন স্বপ্ন, চোখে অন্ধকার—তবুও হার মানেননি তাঁরা। রাজপথে ফের প্রতিবাদের আগুন জ্বালাচ্ছেন চাকরি হারানো শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা। চলতি সপ্তাহে পরপর দু’দিন মহামিছিল ও ভবন অভিযান ঘিরে ফের উত্তাল হতে চলেছে কলকাতা।

বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ এবং শুক্রবার সল্টলেকের এসএসসি ভবনের উদ্দেশ্যে মিছিলের ডাক দিয়েছেন বঞ্চিতরা। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছ থেকে এই দুটি কর্মসূচির কোনও অনুমতি মেলেনি বলে খবর। কিন্তু তাতে দমে যাননি তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় শহিদ মিনারের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁদের এক প্রতিনিধি মেহবুব মণ্ডল জানান, “আমরা হার মানতে আসিনি। এটা শুধুই চাকরির লড়াই নয়, এটা অস্তিত্বের লড়াই।”

আরও পড়ুনঃ শিক্ষকদের মার! বিকাশভবনে ব্রাত্য বসুর সঙ্গে হলনা অভিজিতের বৈঠক

তাঁদের কর্মসূচির রূপরেখা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশনে জমায়েত। সেখান থেকে পদযাত্রা রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত। শুক্রবার অভিযান এসএসসি ভবনের দিকে। চাকরি হারানোদের দাবি, এই মিছিল ‘অরাজনৈতিক’। কোনও রাজনৈতিক দলের ছায়া তাঁরা চান না। শুধু চান, সাধারণ মানুষ তাঁদের পাশে থাকুন।

Advertisement
ads

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বাতিল হয়েছে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ তালিকা। চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও কর্মী। সেই থেকেই শুরু আন্দোলন। রাজ্য সরকারও পাশে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি—৭ এপ্রিল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের ডাকা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে স্কুলে থাকার বার্তা দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা।

তবে আন্দোলন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনাও। গত ডিআই অফিস অভিযানে লাঠিচার্জ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে কলকাতা পুলিশ। একাধিক ভিডিয়ো ক্লিপ শেয়ার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের এক্স হ্যান্ডেল থেকে। যদিও চাকরি হারানোদের দাবি, “ভিডিয়োর সত্যতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।”

এই লড়াইয়ের শেষ কোথায়? প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে শহরের বুক জুড়ে। তবে স্পষ্ট একটাই বার্তা—স্বপ্ন ভেঙেছে ঠিকই, কিন্তু তারা থামেনি। রাজপথ এখন প্রত্যয় আর প্রতিবাদের সাক্ষী।

 

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement