রাজনীতি
বাংলায় বললেই ডিটেনশন, প্রধানমন্ত্রীকে ‘নাক গলানোর মাস্টার’ বলে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্ক: ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর নিপীড়নের প্রতিবাদে তীব্র ভাষায় কেন্দ্রকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল শেষে রাজপথের জনসমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
বৃষ্টির মধ্যেই শহরের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন মমতা নিজে। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা ও দোলা সেন-সহ একাধিক শীর্ষ তৃণমূল নেতা।
মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, “বাংলায় কথা বললেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে! ২২ লক্ষ বাঙালির উপর চলছে ভয়াবহ জুলুম। বাংলার বাইরে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের হেনস্তা হতে হচ্ছে, আত্মীয়র বাড়িতে গেলে গ্রেফতার করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ ‘বাঙালির ঐতিহ্যে আঘাত’— বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
নরেন্দ্র মোদীকে নাম না করে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, “বাঙালিদের দিয়ে কাজ করাবে, আর বাংলায় কথা বললেই গ্রেফতার? বাংলা কি ভারতের বাইরে?” প্রধানমন্ত্রীকে ‘নাক গলানোর মাস্টার’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, “কে কী খাবে, সেটাও ঠিক করে দিচ্ছেন! এটা কি গণতন্ত্র? আপনারা যা করছেন, তা কি এমার্জেন্সির থেকে কম?”
মমতা আরও বলেন, লুকিয়ে কেন্দ্র গোপন নোটিফিকেশন জারি করেছে, যাতে বলা হয়েছে বাংলা বললেই সন্দেহের চোখে দেখা হবে। “আমরা রাস্তায় নামব, দেশজুড়ে আন্দোলন হবে,” হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর।
এই মঞ্চ থেকেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ আটকানো কার দায়িত্ব? “বর্ডার তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে, তাহলে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কেন?”
বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিভিসি (DVC)-র বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, “No prior notice, অথচ জল ছেড়ে দিয়ে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
সরাসরি আক্রমণ ও প্রতিবাদের এই ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন— বাঙালিদের অপমান তিনি আর বরদাস্ত করবেন না।
