স্বাস্থ্য
আবারও কোভিডের ছায়া! কেরলে ৬৯, মহারাষ্ট্রে ৪৪ জন আক্রান্ত
ডিজিটাল ডেস্ক: ফের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে COVID-19 (Covid)। এশিয়ার একাধিক দেশে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। বিশেষত হংকং (Hong Kong) এবং সিঙ্গাপুরে (Singapore) আক্রান্তের সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে। আর এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের স্বাস্থ্য মহলেও শুরু হয়েছে সতর্কতা। কারণ, এই দুই দেশের সঙ্গে ভারতের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে—ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা পর্যটনের কারণে বহু ভারতীয় প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন সেখানে। স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা বাড়ছে, আবার কি ফিরে আসবে সেই ‘মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের’ সময়?
এদিকে, দেশে ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্তের খবর সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health) মতে, বর্তমানে দেশে সক্রিয় করোনা কেসের সংখ্যা ২৫৭। সোমবার (১৯ মে, ২০২৫) এই তথ্য উঠে এসেছে ‘দ্য হিন্দু’ (The Hindu)–র প্রতিবেদনে।
কোন রাজ্যে কত কেস?
গত এক সপ্তাহে দেশে ১৬৪ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গিয়েছে কেরলে (Kerala)—সেখানে ৬৯ জন নতুন কেস ধরা পড়েছে। এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্র (Maharashtra), যেখানে সংক্রমণ ৪৪ জনের শরীরে মিলেছে। তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) রয়েছে তৃতীয় স্থানে, ৩৪ জন আক্রান্ত। মহারাষ্ট্রে বর্তমানে সক্রিয় করোনা কেস রয়েছে ৫৬, যা রাজ্য প্রশাসনকে কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে।
ভাইরাসের স্ট্রেন ও মিউটেশনই কি দায়ী?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন স্ট্রেন JN.1 এবং তার উপ-প্রজাতিগুলির মিউটেশনই মূলত এই সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে। যদিও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণের মাত্রা মৃদু। আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।
ভারতের প্রস্তুতি কেমন?
সোমবার, দিল্লিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয় COVID পরিস্থিতি নিয়ে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (NCDC), ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল (Disaster Management Cell), জরুরি চিকিৎসা বিভাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিরা।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, “ভারতে COVID পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। সক্রিয় কেসের সংখ্যা এখনও নিয়ন্ত্রণে, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা উপসর্গবিহীন বা মৃদু উপসর্গে আক্রান্ত।”
তবে কি নতুন করে সাবধানতার প্রয়োজন?
যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে এখনও কোনও নতুন বিধিনিষেধ জারি হয়নি, তবে সতর্কতা অবলম্বনের উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত যাঁরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘সেল্ফ মনিটরিং’ বা নিজের শরীরের উপসর্গ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারত এখনও পর্যন্ত বড় কোনও আতঙ্কে না থাকলেও, হংকং-সিঙ্গাপুরে বাড়তে থাকা সংক্রমণ দেশে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে—আর সে কারণেই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার।
