বৃহস্পতিবার (Thursday) বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে গুজরাত সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের সহকারী মুখ্যসচিব ধনঞ্জয় দ্বিবেদী (Dhananjay Dwivedi) জানান, “এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) এআই১৭১ (AI171) নম্বরের বিমানে মোট ২৩০ জন যাত্রী ও ১২ জন বিমানকর্মী ছিলেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিমানটি ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।” ধনঞ্জয় আরও বলেন, “বিমানটি যেখানে ভেঙে পড়েছে, সেখানে আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতাল (Ahmedabad Civil Hospital) ও বিজে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাস (Hostel) রয়েছে। হস্টেলে থাকা বহু ছাত্রও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই ৫০ জনের বেশি আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ মহেশতলায় গোষ্ঠী সংঘর্ষে আক্রান্ত পুলিশ, কড়া বার্তা ডায়মন্ড হারবারের এসপি-র
বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য দেহ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। ধনঞ্জয় দ্বিবেদী বলেন, “মৃতদের নিকট আত্মীয়দের অনুরোধ করা হচ্ছে বিজে মেডিক্যাল কলেজে এসে ডিএনএ নমুনা দিয়ে যেতে। এতে দেহ শনাক্তকরণ সহজ হবে।”
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মীয় ও স্বজনদের তথ্য জানার জন্য দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে গুজরাত প্রশাসন। যাত্রীদের পরিবারের জন্য মেডিক্যাল কলেজে একটি নির্ধারিত ভবনও খুলে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর (Ahmedabad Airport) থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর (Gatwick Airport, London) উদ্দেশে রওনা দেয় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে সিভিল হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল ভবনে। সেই সময় হস্টেলের মেস-এ খাওয়া দাওয়া করছিলেন ছাত্ররা। তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ওই বিমানে মোট ২৪২ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ (British), ৭ জন পর্তুগিজ (Portuguese) এবং ১ জন কানাডীয় (Canadian) নাগরিক ছিলেন। আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অবস্থায় কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।
সবচেয়ে দুঃখজনক যে, ওই বিমানে ছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী (Vijay Rupani)। তাঁর মৃত্যু খবর ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। বিমান দুর্ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।