ভাইরাল খবর
কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ধৃত বিজেপি কর্মী, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের
ডিজিটাল ডেস্কঃ কাকদ্বীপে (Kakdwip) কালীমূর্তি (Kali Murti) ভাঙার ঘটনায় গ্রেপ্তার এক বিজেপি (BJP) ও সক্রিয় আরএসএস (RSS) কর্মী। তৃণমূলের (TMC) অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এই ঘটনার পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে। পুলিশের জেরায় ধৃত ব্যক্তি নারায়ণ হালদার (Narayan Halder) স্বীকার করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় এই জঘন্য কাজটি করেছেন।
বুধবার রাতে কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার (Harwood Point Coastal PS) অন্তর্গত সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের (Surjanagar GP) উত্তর চন্দননগর নস্করপাড়ায় কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এরপরই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকার রাস্তা অবরোধ (Road Blockade) করে বিক্ষোভ শুরু হয়।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিতে চেয়েছিল। দলটির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “বিজেপি ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। শেষে দেখা গেল তাদেরই যুব মোর্চার এক কর্মী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। সে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় করেছে নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, সেটা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।”
সূত্রের খবর, অবরোধে যুক্ত ছিলেন বিজেপির সমর্থক ও কর্মীরা। অবরোধকারীদের হাতে ছিল লাঠি (Sticks) ও ইটপাটকেল (Bricks)। ঘটনায় একজন পুলিশকর্মী আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কালীমায়ের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মূর্তিটিকে সুরক্ষিতভাবে প্রিজন ভ্যানে (Prison Van) তোলা হয়। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার (Superintendent of Police, Sundarban District) কোটেশ্বর রাও (Koteswar Rao) জানান, নারায়ণ হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।
ধৃতকে এদিন কাকদ্বীপ আদালতে (Kakdwip Court) তোলা হলে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। পুলিশ জানায়, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, মথুরাপুরের (Mathurapur) সাংসদ বাপি হালদার (Bapi Halder) বলেন, “সারা রাজ্যে বিজেপি যেভাবে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (Communal Riot) বাধানোর চেষ্টা করছে, কাকদ্বীপেও সেই একই অভিসন্ধি কাজ করেছে।”
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি পরিকল্পনা করে গ্রামের মানুষকে উসকে পথ অবরোধ করিয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় শান্তি নষ্ট করা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করা। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।


