বারুইপুর কাণ্ডে ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট! যৌন নির্যাতন-খুনের ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত
Connect with us

ভাইরাল খবর

বারুইপুর কাণ্ডে ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট! যৌন নির্যাতন-খুনের ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর নাবালিকাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের (Rape and Murder) ঘটনায় সামনে এল শিউরে ওঠার মতো ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট (Preliminary Post Mortem Report)। চিকিৎসকদের মতে, নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে ‘অ্যান্টিমোর্টেম ড্রাউনিং’ (Antemortem Drowning) বা জলে ডুবে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণে। রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, নাবালিকার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার ফলে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এছাড়া যৌনাঙ্গে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক ক্ষত মিলেছে, যা পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের আশঙ্কাকে নিশ্চিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অচেতন অবস্থায় যখন তাকে পুকুরে ফেলা হয়েছিল, তখনও সে জীবিত ছিল এবং ফুসফুসে ও পাকস্থলীতে জল ঢোকার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলায় পকসো (POCSO) আইনের কঠোর ধারা যুক্ত করেছে।

এদিকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৎপরতা দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত (Main Accused) আনন্দ সর্দারকে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে ধৃত প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে রাতভর জেরা করে আনন্দের নাম জানতে পারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। এই নিয়ে মামলায় মোট ৩ জন গ্রেফতার ও ৩ জন আটক হলো। ধৃত আনন্দকে হেফাজতে চেয়ে বারুইপুর আদালতে পেশ করবে পুলিশ। একটি সিসিটিভি ফুটেজে (CCTV Footage) এক নীল টুপি পরা ব্যক্তিকে নাবালিকার সাথে হেঁটে যেতেও দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বারুইপুরের দিকে রওনা দিয়েছেন ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর প্রতিনিধি দল, যার মধ্যে রয়েছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন ও প্রতিমা মণ্ডল।

সোমবার মিত্র ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠান সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। পরিবার প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে এবং তাঁরা সরকারের কাছ থেকে সবরকম সহযোগিতা ও ন্যায়বিচার (Justice) পাবেন। মূল অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।” পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্তকারী ‘ভোটহারা অতৃপ্ত আত্মাদের’ এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা ভাবতেও পারছে না। তিনি আরও যোগ করেন, “মিসিং ডায়েরি (Missing Diary) হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের কোনো গাফিলতি বা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা (Irresponsibility) থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে দরজা দেখিয়ে দেওয়া হবে। আমি নিজে বারুইপুর এসপি (SP) অফিসে গিয়ে এর মূল্যায়ন করব।” বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর থানা এলাকায় বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে।