ভাইরাল খবর
স্বামীর হাতে ব্যক্তিগত মুহূর্তের অপব্যবহার, আইনি পথে স্ত্রী
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিয়ে কোনো ব্যক্তিকে তার সঙ্গীর উপর মালিকানা দেয় না—সম্প্রতি এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছে ইলাহাবাদ হাই কোর্ট। এক মামলায়, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলাটি খারিজের আবেদন জানালে, আদালত তা নাকচ করে তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করে।
বিচারপতি বিনোদ দিবাকর রায়ে উল্লেখ করেন, বিবাহিত সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান। স্বামী স্ত্রীর বিশ্বাস রক্ষা করবেন, সেটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। তবে, গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করা শুধু নৈতিক অন্যায় নয়, আইনিভাবেও অপরাধ। আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, বিয়ে মানে কোনোভাবেই স্বামীর জন্য স্ত্রীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অধিকার নয়। প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব গোপনীয়তা ও অধিকার রয়েছে, যা বিয়ের পরেও অব্যাহত থাকে।
আরও পড়ুনঃ স্ত্রীর প্রতারণা ফাঁস, ১৬ বছর পর ডিএনএ টেস্টে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সত্য
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একজন স্ত্রী কখনোই স্বামীর ‘সম্পত্তি’ বা ‘বর্ধিত অংশ’ নন, বরং তার নিজস্ব ইচ্ছা ও অধিকার রয়েছে। বিবাহিত সম্পর্কের অন্তরঙ্গতা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, যা কখনোই অসম্মান বা লঙ্ঘিত হওয়া উচিত নয়। এই ধরনের গোপনীয় তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা শুধু আস্থার অবমাননা নয়, এটি নৈতিক ও আইনি উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর অপরাধ।
২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, স্বামী তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী দাবি করেন, যেহেতু অভিযোগকারী অভিযুক্তের বৈধ স্ত্রী, তাই এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, আদালত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয়, বৈবাহিক সম্পর্ক কোনো অপরাধের দায় এড়ানোর ঢাল হতে পারে না।
এই রায়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিল যে, বিবাহিত জীবনেও প্রত্যেকের নিজস্ব গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে এবং তা লঙ্ঘিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
