রাজনীতি
উত্তরবঙ্গের ‘ম্যান-মেড’ বন্যায় অনুদান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ত্রাণ তহবিলে দিলেন ১ লক্ষ টাকা
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা (Flood) ও ভূমিধস (Landslide) কবলিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ (MP) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি ঘোষণা করেছেন, উত্তরবঙ্গের এই বিপর্যয়ের মোকাবিলায় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (State Disaster Response Force – SDRF)-কে ১ লক্ষ টাকা অনুদান (Donation) দেবেন।
সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) সকলের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, যারা চায় তারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (West Bengal State Disaster Management Authority – WBSDMA)–র তহবিলে অর্থ সাহায্য করতে পারেন।
পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন—
“উত্তরবঙ্গে এমন কঠিন সময়ে প্রতিটি মানবিক (Humanitarian) উদ্যোগই অত্যন্ত মূল্যবান। আমি সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এই মানুষের তৈরি করা (Man-Made) বিপর্যয়ে যাঁরা সবকিছু হারিয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসুন এবং উদারভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।”
Unforeseen floods and landslides have devastated parts of the northern districts of West Bengal, bringing immense suffering and causing severe loss to lives, livelihoods and property.
In light of this tragedy, the GoWB has appealed to everyone to contribute to the West Bengal… pic.twitter.com/Y1COjuB3nc
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) October 14, 2025
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বন্যাকে ‘ম্যান-মেড’ (মানুষ সৃষ্ট) আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ভুটান ও অসম থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে নাগরাকাটা (Nagrakata) ও মিরিক (Mirik) এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ছবি উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘বাঁধ’ (Dam)-এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ৪-৫ অক্টোবরের মধ্যে মাত্র দু’দিনে ৩০০ মিমিরও বেশি বৃষ্টিপাতে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং জেলায় সৃষ্টি হয় চরম বিপর্যয়। ১১০টিরও বেশি জায়গায় ধস নামে, প্রাণ হারান অন্তত ৪০ জন। হাজার হাজার পর্যটক আটকে পড়েন, দুটি লোহার সেতু ভেঙে পড়ে, রেলপথ ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুটান ও সিকিম থেকেও নদীতে অতিরিক্ত জলস্রোতের কারণে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যাকে কেন্দ্রীয় অব্যবস্থাপনার ফল বলে উল্লেখ করে প্রতি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন।
