ভাইরাল খবর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনুষঙ্গ থেকে সংবিধান সভা! আইপ্যাক মামলায় নজিরবিহীন আইনি লড়াই
ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচনের (Election) প্রথম দফার ঠিক আগের দিন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুরু হলো হাইভোল্টেজ আইপ্যাক মামলার (I-PAC Case) শুনানি। বুধবার শীর্ষ আদালতে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা (Admissibility) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির এক্তিয়ার নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়। রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ও মেনকা গুরুস্বামী ইডির আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন।
মনু সিংভি তাঁর সওয়ালে (Submission) স্পষ্ট জানান যে, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 19) অনুযায়ী কথা বলার স্বাধীনতা (Freedom of Speech) বা ব্যবসা করার অধিকারের মতো মৌলিক অধিকারগুলো (Fundamental Rights) কেবল একক নাগরিকদের (Individual Citizens) জন্য প্রযোজ্য। ইডির মতো কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার ক্ষেত্রে এই অধিকার খাটে না। তিনি দাবি করেন, ইডির তদন্ত করার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই, তাদের ক্ষমতা কেবল আইনের (Statutory Power) ওপর নির্ভরশীল। ইডির অফিসাররা স্রেফ আইনের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের আলাদা কোনো ব্যক্তিগত অস্তিত্ব নেই।
অন্যদিকে, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 32) নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলেন। তিনি ১৯৪৮ সালের সংবিধান সভার (Constituent Assembly) বিতর্কের সূত্র ধরে সওয়াল শুরু করেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (Second World War) প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর মতে, সংবিধানের এই সুরক্ষাকবচ নাগরিকদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, কোনো শক্তিশালী সরকারি সংস্থার জন্য নয়। কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা (State Agency) যদি নিজেদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে সিবিআই তদন্তের দাবি করে, তবে তা হবে অত্যন্ত অবাস্তব (Absurd) বিষয়।
পাল্টা যুক্তিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ করেন যে, বিপক্ষ আইনজীবীরা মূল ঘটনাটি এড়িয়ে যেতে চাইছেন। অতীতে ইতিহাস এবং আইনি মারপ্যাঁচ তুলে ধরে মূলত মামলাটি খারিজ (Dismiss) করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রথম দফার ভোটের আগে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতি ও আইনি মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


