ভাইরাল খবর
আইপ্যাক মামলায় বড় ধাক্কা: ইডির তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়া ‘অনভিপ্রেত’ জানাল সুপ্রিম কোর্ট
ডিজিটাল ডেস্কঃ আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। বুধবার মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ (Observation) করে যে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তদন্ত চলাকালীন কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে সশরীরে ঢুকে পড়া একেবারেই ‘অনভিপ্রেত’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত। আদালতের প্রশ্ন, “আজ একজন মুখ্যমন্ত্রী ঢুকেছেন, কাল যদি অন্য কেউ একইভাবে কোনও দফতরে প্রবেশ করেন, তবে তার বিচার কীভাবে হবে?”
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। কয়লা পাচার মামলার (Coal Scam) তদন্তে সল্টলেকের আইপ্যাক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। অভিযোগ, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছে যান এবং একগুচ্ছ সবুজ ফাইল (Green Files) ও হার্ডডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য (Digital Evidence) সরিয়ে ফেলেছেন। এমনকি ইডি আধিকারিকদের গ্রেফতারের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারের (Rajeev Kumar) বিরুদ্ধেও।
এদিন শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান এবং কপিল সিব্বল ইডির মামলা করার এক্তিয়ার (Jurisdiction) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি, ইডি কোনও স্বতন্ত্র আইনি সত্তা (Juristic Entity) নয়, তাই তারা অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী মামলা করতে পারে না। অন্যদিকে, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ করেন, রাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট (Time-wasting) করছে। এর আগে আদালত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেও ইডি দাবি করেছে যে সেই ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, রেকর্ডে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী শুনানি (Hearing) চলবে। তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এই মামলা এখন কোন পথে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


