ভোটের খবর
সিআরপিএফ ঘেরাও” মন্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো নোটিশের জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো
নিউজ ডেস্ক ,১০ এপ্রিল : কোচবিহারের শীতলকুচির জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “সিআরপিএফ যদি গণ্ডগোল করতে আসে, তবে তাঁদের ঘেরাও করুন। এরপর একদল ভোট দিতে যান। নিজের ভোট নষ্ট করবেন না।
” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বয়ানের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে এই মন্তব্যের জন্যে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছিল। শনিবার সকাল ১১ টার মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।এবার নির্বাচন কমিশনের চিঠির জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি লেখেন, “তিন দফার ভোটে বিভিন্ন জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এই নিয়ে প্রায় ১৫০টি অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বাহিনীর কোনও সদস্যের বিরুদ্ধেই কমিশন গুরুতর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উলটে রাজ্য পুলিশের একের পর এক আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”কমিশনকে জবাবে তারকেশ্বরে বাহিনীর জওয়ানের হাতে নাবালিকার শ্লীলতাহানির ঘটনারও উল্লেখ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, “ওই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি।”তাঁর দাবি, “আমি শান্তিপূর্ণ ভাবে ঘেরাও করতে বলেছি। এটি বাংলায় একটি পরিচিত শব্দ। অহিংস অবস্থানকে ঘেরাও বলে। গণতান্ত্রিক দেশের সমস্ত নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্যই একথা বলেছেন তিনি। আমি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করিনি।উল্লেখ্য, গত বুধবার কোচবিহারের নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিআরপিএফ-এর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। বাংলার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, “মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া উচিত। সিআরপিএফের তাদের বাধা দেওয়া উচিত নয়। আমি সিআরপিএফকে সম্মান করি। যারা সত্যিকারের সিআরপিএফ জওয়ান তাদের সম্মান করি। তবে, বিজেপির সিআরপিএফকে সম্মান করি না। কেন্দ্রীয় জওয়ানরা অশান্তি করতে এলে একদল ওদের ঘিরে ফেলুন। আরেক দল ভোট দিতে যান। কারা এই কাজ করছে, তাদের নাম লিখে রাখুন।”এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকেই প্ররোচনামূলক বলে সরব হয় বিজেপি। কমিশনের কাছে অভিযোগ জানায় পদ্ম বাহিনী। তারপরই শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠায় কমিশন।
