বাংলাদেশ
হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে রাজপথ দখলের শপথ আওয়ামী লীগের
ডিজিটাল ডেস্কঃ
ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-1) আগামী ১৩ নভেম্বর Sheikh Hasina ও Asaduzzaman Khan Kamal-এর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ (crimes against humanity) মামলায় সাজা ঘোষণা করবে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর Tajul Islam মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছেন।
আওয়ামী লীগের (Awami League) শীর্ষ নেতারা এ মামলা ও সাজার দিনে ইতিমধ্যে দলীয় কর্মসূচি ধরে রেখেছেন—সাজা ঘোষণার দিনটিকে তারা ‘রাজপথে থাকার (stay on the streets)’ শপথের দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তদন্ত ও নথিপত্র অনুযায়ী, প্রসিকিউটর দাবি করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসিনা সরকারের আমলে প্রায় ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মতে, সেই কারণেই নেত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়।
সাজা ঘোষণার দিন হিসেবে ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাখা হলেও, এর পর হয় সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি—শুক্রবার ও শনিবার। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ১৬ নভেম্বর সোমবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে সাজা ঘোষণা হতে পারে এবং সেদিন থেকেই তাদের কর্মসূচি শুরু হবে।
দলের এক প্রবীণ নেতা বলেছেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে Sheikh Mujibur Rahman-এর সপরিবার হত্যার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল—এবারও অবৈধ বিচার, অবৈধ ট্রাইব্যুনালের নামে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আমরা যে কোনো মূল্যে তা প্রতিরোধ করব।”
আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বলছে, “বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের কারাগারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু নেত্রীর বিরুদ্ধে যদি চরম সাজা দেওয়া হয়, তাহলে তার প্রতিঘাতও হবে ততোধিক তীব্র।” তারা সাজা ঘোষণার দিনকে দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। “সাধারণ কার্যকর্মীরাই আমাদের ভরসা,” এক নেতা জানান। গ্রেফতারের পরও দিব্বি আওয়ামী লীগের আন্দোলনে প্রবাহ কমেনি; বরং মিছিলের ভিড় বাড়ছে।
দল বলছে, সেই দিন ঢাকার সঙ্গে সঙ্গে পুরো দেশের রাজপথে নেতা-কর্মীরা থাকবে। নতুন স্লোগান দেওয়া হয়েছে—
“শেখ হাসিনার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।”
গত বছর ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর গ্রহন করা স্লোগান ছিল—“শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।” কিন্তু বর্তমানে নতুন স্লোগান ও পোস্টার মিছিল শুরু হয়েছে। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক Bahauddin Noshim বলেছেন, এই ট্রাইব্যুনালটি তাদের মতে বঙ্গবন্ধু তৈরি করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিচার করার জন্য। সেটিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের বিচার হতে পারে না—এ কারণেই তারা এই ট্রাইব্যুনালকে “অবৈধ (illegal)” বলছেন। তাঁরা বলছেন—যে বিচার, যে সাজা দেবে, তা আমরা মানব না।
