দীপাবলিতে ভয়াবহ ট্রেন্ড ‘কার্বাইড গান’: চোখ হারাল ১৪ শিশু, হাসপাতালে শতাধিক
Connect with us

দুর্ঘটনা

দীপাবলিতে ভয়াবহ ট্রেন্ড ‘কার্বাইড গান’: চোখ হারাল ১৪ শিশু, হাসপাতালে শতাধিক

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ আলোয় ভরা দীপাবলি (Diwali 2025) এবার পরিণত হল অন্ধকারের উৎসবে। আতসবাজির (Fire Crackers) উৎসবের মধ্যে মধ্যপ্রদেশজুড়ে (Madhya Pradesh) ছড়িয়ে পড়েছে এক ভয়ংকর নতুন ট্রেন্ড—‘কার্বাইড গান’ (Carbide Gun) বা ‘দেশি ফায়ার ক্র্যাকার গান’। এই প্রাণঘাতী খেলার উৎসবই এখন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

গত তিন দিনে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল (Hospital) ভর্তি হয়েছে ১২২-এরও বেশি শিশু। এদের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের চোখের দৃষ্টি (Eyesight) সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে বিদিশা (Vidisha) জেলায়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা (Ban) জারি থাকা সত্ত্বেও ১৮ অক্টোবরের পরও রাস্তার ধারে ও স্থানীয় মেলায় বিক্রি হয়েছে এই বিপজ্জনক খেলনা বাজি।

মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া এই ‘কার্বাইড গান’ দেখতে নিরীহ খেলনার মতো হলেও বিস্ফোরণের সময় আচরণ করে একেবারে বোমার (Bomb) মতো। হামিদিয়া (Hamidia) হাসপাতালে ভর্তি ১৭ বছরের নেহা জানায়, “আমরা একটা কার্বাইড গান কিনেছিলাম। হঠাৎ সেটা ফেটে যায়, আমার এক চোখ পুড়ে গেছে।” একইভাবে রাজ বিশ্বকর্মা, এক কিশোর, জানায়—“ইউটিউব (YouTube) আর ইনস্টাগ্রাম (Instagram) দেখে ঘরে বানাতে গিয়েছিলাম। মুখের সামনে ফেটে যায়, এখন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।”

বিদিশা পুলিশের (Vidisha Police) দাবি, বেআইনিভাবে এই বাজি বিক্রির দায়ে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, “যাঁরা এই বিপজ্জনক জিনিস বিক্রি বা প্রচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Advertisement
ads

ভোপাল (Bhopal), ইন্দোর (Indore), জবলপুর (Jabalpur) ও গ্বালিয়রের (Gwalior) হাসপাতালগুলোতে এখন চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত শিশুদের ভিড়। শুধু ভোপালের হামিদিয়া হাসপাতালেই গত ৭২ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৬ শিশু।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—‘কার্বাইড গান’ কোনও খেলনা নয়, বরং এটি একপ্রকার বিস্ফোরক (Explosive Device)। হামিদিয়া হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. মণীশ শর্মা (Dr. Manish Sharma) জানান, “এই ডিভাইস থেকে নির্গত ধাতব কণা (Metal Particles) ও কার্বাইড বাষ্প (Carbide Vapour) সরাসরি চোখে আঘাত করে, রেটিনা (Retina) পুড়িয়ে দেয়। বহু শিশুর চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।” কয়েকজন শিশু এখনও আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসাধীন।

এই বাজিগুলি মূলত প্লাস্টিক বা টিনের পাইপে গানপাউডার (Gunpowder), দেশলাইয়ের মাথা ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড (Calcium Carbide) ভরে বানানো হয়। একটি ছিদ্র দিয়ে আগুন ধরালে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে, যা মুখ বা চোখে সরাসরি আঘাত করে গুরুতর ক্ষতি ঘটায়।

Advertisement
ads

পুলিশের মতে, স্থানীয় মেলা ও রাস্তার ধারে ‘মিনি ক্যানন’ (Mini Cannon) নামে বিক্রি হচ্ছে এই ভয়াবহ বস্তু, যেখানে কোনও সুরক্ষা বিধিরই (Safety Regulation) তোয়াক্কা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপজ্জনক ট্রেন্ডের (Dangerous Trend) মূল উৎস সোশ্যাল মিডিয়া—বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম রিলস (Instagram Reels) ও ইউটিউব শর্টস (YouTube Shorts)। ‘ফায়ারক্র্যাকার গান চ্যালেঞ্জ’ (Firecracker Gun Challenge) নামে ভাইরাল ভিডিও দেখে বহু কিশোর এখন নিজের হাতে বানাতে শুরু করেছে এই প্রাণঘাতী খেলনা। আর তার ফল—চোখের আলো হারিয়ে আজীবনের অন্ধকার।

Continue Reading
Advertisement