বিশ্বের খবর
দুই বছর বন্দি থাকার পর ৪৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে গাজার কারাগার থেকে—তাদের মধ্যে জীবিত মাত্র ২০ জন
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ দুই বছরের (two-year) বন্দিদশার পর গাজার (Gaza) থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন প্রায় ৪৮ জন ইজরায়েলি (Israeli) বন্দি, যুদ্ধবিরতির (ceasefire) একটি শর্ত অনুযায়ী। তবে তাদের মধ্যে জীবিত (alive) সংখ্যা কম—মাত্র ২০ জন বলে ইজরায়েলের দাবি।
হামাস (Hamas) ও ইজরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতার অংশ হিসেবে হঠাৎই আলোচনায় আসে এই বন্দি মুক্তি পরিকল্পনা। হামাস প্রায় ২,০০০ জন বন্দির বিনিময়ে এই ৪৮ জনকে মুক্তি দেবে বলে ঘোষণা করেছে।
মুক্তি পাবেন এমন বন্দিদের তালিকায় রয়েছেন—নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল (Nova Music Festival) থেকে অপহৃত কয়েকজন, কেউ কেউ কিব্বুতজ (kibbutz) এলাকা থেকে। ২৪ বছর বয়সি এভিয়াতার ডেভিড (Aviatar David) রয়েছে তালিকায়; আগেই এক হামাস ভিডিওতে তাকে নিজের কবর খুঁড়তে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া তরুণ পিয়ানোবাদক আলন ওহেল (Alon Ohel, ২৪) এবং ৩২ বছর বয়সি আভিনাতান অর (Avinatan Or) নামেও রয়েছেন।
কিব্বুতজ থেকে অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন যমজ গালি ও জিভ বারম্যান (both ২৮) ও তাদের ভাই এরিয়েল কুনিও (২৮) ও ডেভিড কুনিও (৩৫)। ডেভিডকে তাঁর স্ত্রী ও দুই শিশুসহ অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া, ৭ অক্টোবরের যুদ্ধের সময় হামাসের হাতে ধরা পড়েন দুই ইজরায়েলি সৈন্য—মাতান অ্যাংগ্রেস্ট (Matan Angrest, ২২) ও নিমরড কোহেন (Nimrod Cohen, ২০)।
মুক্তির এই ৪৮ জনের মধ্যে চারজন বিদেশি। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত বলা হয়েছে—একজন তানজানিয়ান (Tanzanian) ছাত্র এবং দুই জন থাই (Thai) শ্রমিক। নেপালের (Nepal) ছাত্র বিপিন জোশি (Bipin Joshi)-র খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।
ইজরায়েল জানিয়েছে, ২৬ জন বন্দি আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফরেনসিক (forensic) রিপোর্ট ও গোয়েন্দা তথ্য (intelligence) বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত। আবার দু’জন বন্দির অবস্থান এখনও অনিশ্চিত।
হামাস জানায়, নিহত বন্দিদের দেহ উদ্ধার করার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগতে পারে কারণ তাদের কবরের স্থান সঠিকভাবে জানা নেই। তাই একটি আন্তর্জাতিক টাস্ক ফোর্স (task force) গঠন করা হয়েছে। নিহত বন্দিদের মধ্যে একজন ২০১৪ সালের যুদ্ধবির্ক্ষিত একটি ইজরায়েলি সৈন্যও রয়েছেন। বাকিরা ২০২৩ সালের অপহরণের সময় মারা যান, কিছু কিনা কবরের ঠিকানা না থাকায় এখনও অদৃষ্টের পাতায়।
এই বন্দি মুক্তি প্রক্রিয়া গাজার পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন মোড় হতে পারে, তবে জীবিত ও মৃতের অপূরণীয় ঘাটতি ও মানবিক সংকটের বাস্তব চিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।


