নিজের পছন্দের প্রার্থী না মেলায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা! অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে
Connect with us

রাজনীতি

নিজের পছন্দের প্রার্থী না মেলায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা! অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ নিজের পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ না হওয়ায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দিলেন তৃণমূল (TMC) নেতা! নদিয়ার (Nadia) ধুবুলিয়া (Dhubulia) এলাকায় এমনই অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। তিন দিন ধরে বন্ধ কেন্দ্র, শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে খাবার বিতরণ বন্ধ। অথচ এই অচলাবস্থার দায় স্বীকার না করে সমস্ত দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সিডিপিও (CDPO)-র উপর। এমন পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষ।

ঘটনাটি ঘটেছে ধুবুলিয়ার বটতলার ১ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে, যা ২২ বছর ধরে চলা একটি সক্রিয় কেন্দ্র। অভিযোগ, গত ১ জুলাই শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব নেন টুকটুকি খাতুন (Tuktuki Khatun)। পরদিনই ধুবুলিয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ও তৃণমূল নেতা বরকত আলি শেখ (Barkat Ali Sheikh) তালা দিয়ে কেন্দ্রটি কার্যত বন্ধ করে দেন। অভিযোগ, ওই পদে তিনি যাঁকে বসাতে চাইছিলেন, তাঁকে নিয়োগ না করায় এই চরম পদক্ষেপ।

শিক্ষিকা টুকটুকি খাতুন বলেন, “আমি ১ জুলাই কাজে যোগ দিয়েছি। ২ তারিখেই তালা দিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। আমাকে সোজাসুজি বলা হয়, আপনার নিয়োগ মেনে নেওয়া হবে না। আপনি যেন না আসেন।” তিনি জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন দপ্তরে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ ত্রিনিদাদে নরেন্দ্র মোদী! বিদেশি প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিহার কি বেটি’ বলে সম্বোধন কেন?

Advertisement
ads

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা তাহাজান বিশ্বাস (Tahajan Biswas) বলেন, “তিন দিন ধরে রান্না বন্ধ। প্রায় ১২০ জন শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও প্রসূতি এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন খাবার পান। এখন কেউ কিছু পাচ্ছেন না।” স্থানীয় বাসিন্দা নাসিনা বিবি (Nasina Bibi) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিশুরা খাবার পাচ্ছে না, পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। এটা খুবই অন্যায়।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিজেপি। ধুবুলিয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা মণি ঘোষ (Moni Ghosh) বলেন, “শাসকদলের নেতা গায়ের জোরে তালা মেরে দিয়েছেন। বাচ্চাদের দোষ কোথায়? তাঁদের তো খাবার পাওয়া মৌলিক অধিকার। মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস (Ujjwal Biswas) নিশ্চুপ কেন?”

এদিকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বরকত আলি শেখ অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দেখভাল করি ঠিকই, কিন্তু তালা মারিনি। গ্রামের লোকজন তালা দিয়েছে। কারণ, পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ করা হয়েছে। এটা মানা যায় না।” তাঁর দাবি, “বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাস সব জানেন। সিডিপিও ফোন ধরছেন না। কেন্দ্র কবে খুলবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রামবাসীর।”

তবে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি নিয়োগ কি পঞ্চায়েত সদস্যের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল? শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের মৌলিক পরিষেবাকে জিম্মি করে কোনও রাজনৈতিক নেতার এই আচরণ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও ঘটনাস্থলে এখনও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কোনও কার্যকর প্রমাণ নেই। অভিযোগের তীরে রয়েছে স্থানীয় শাসকদলের দিকেই।

Advertisement
ads